নিজস্ব প্রতিবেদক: 4 September 2026 , 10:50:37 প্রিন্ট সংস্করণ
বিনামূল্যে চোখের ছানি অপারেশনের কথা বলে রোগীবাহী গাড়িতে তোলার পর বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল কাইয়্যুমকে (৭০) গাড়ি থেকে নামিয়ে দেওয়ার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে কুমিল্লার আলেখারচর চক্ষু হাসপাতালের চিকিৎসক দলের বিরুদ্ধে। মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে পরিচয় দেওয়ার পরই তাকে অপমানজনকভাবে গাড়ি থেকে নামিয়ে দেওয়া হয় বলে ভুক্তভোগী দাবি করেছেন।
শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) ব্রাহ্মণবাড়িয়া সাবেরা সোহবান স্কুলে আলেখারচর চক্ষু হাসপাতালের আয়োজনে এক বিনামূল্যে চক্ষু সেবা ও ছানি অপারেশন ক্যাম্পের সময় এই ঘটনা ঘটে। ভুক্তভোগী আব্দুল কাইয়্যুম ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলার মেরকুডা গ্রামের বাসিন্দা।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত ৪ সেপ্টেম্বর সাবেরা সোহবান স্কুলে গরিব, অসহায় ও বীর মুক্তিযোদ্ধাদের বিনামূল্যে ছানি অপারেশনের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে—হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের এমন প্রচার ও মাইকিং শুনে চিকিৎসা নিতে যান আব্দুল কাইয়্যুম। সেখানে চিকিৎসকরা পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে তার চোখে ছানি শনাক্ত করেন এবং অপারেশনের জন্য তাকে চূড়ান্তভাবে মনোনীত করেন। এরপর বিনামূল্যে অপারেশনের উদ্দেশে তাকে হাসপাতালের নিজস্ব রোগীবাহী গাড়িতে তোলা হয়।
গাড়িটি কিছুদূর যাওয়ার পর আব্দুল কাইয়্যুম নিজেকে বীর মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে পরিচয় দিলে বদলে যায় পরিস্থিতি। ভুক্তভোগীর অভিযোগ, আলেখারচর চক্ষু হাসপাতালের প্রোগ্রাম অফিসার মো. শাহজাহানের নেতৃত্বাধীন চিকিৎসক দল তার সাথে দুর্ব্যবহার করে এবং হঠাৎ তাকে গাড়ি থেকে নামিয়ে দেয়। এসময় তাকে জানানো হয়, ‘মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য এখানে চিকিৎসার কোনো ব্যবস্থা নেই।’
পরে ক্ষুব্ধ ও চরম অপমানিত হয়ে বৃদ্ধ এই বীর মুক্তিযোদ্ধা ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রেসক্লাবে গিয়ে সাংবাদিকদের কাছে এ ঘটনার বিস্তারিত বর্ণনা দেন এবং বিচার দাবি করেন।
সরকারি প্রকল্প ও হাসপাতালের অঙ্গীকার নিয়ে প্রশ্ন
কুমিল্লা জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের নথিপত্র বিশ্লেষণ করে জানা গেছে, আলেখারচর চক্ষু হাসপাতালটি বাংলাদেশ জাতীয় অন্ধকল্যাণ সমিতির অধিভুক্ত একটি প্রতিষ্ঠান। ‘ডিপিপি’ সরকারি প্রকল্পের আওতায় বীর মুক্তিযোদ্ধাদের বিনামূল্যে ছানি অপারেশনসহ নির্দিষ্ট সংখ্যক দরিদ্র ও অসহায় রোগীদের বিনামূল্যে ওষুধ ও পূর্ণাঙ্গ চিকিৎসা সেবা দেওয়ার বাধ্যবাধকতা রয়েছে।
সরকারি নথিতে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য বিনামূল্যে চিকিৎসার সুস্পষ্ট বিধান থাকা সত্ত্বেও, একজন বীর মুক্তিযোদ্ধাকে অপারেশনের জন্য বাছাই করার পর গাড়ি থেকে নামিয়ে দেওয়া নিয়ে সচেতন মহলে চরম অসন্তোষের সৃষ্টি হয়েছে।
অভিযোগের বিষয়ে বিস্তারিত জানতে আলেখারচর চক্ষু হাসপাতালের প্রোগ্রাম অফিসার মো. শাহজাহানের মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি ব্যস্ততা দেখিয়ে কথা বলতে অপারগতা প্রকাশ করেন। অন্যদিকে, হাসপাতাল পরিচালনা কমিটির সভাপতি অ্যাডভোকেট আ.হ.ম. তাঈফুর আলমের মুঠোফোনে একাধিকবার চেষ্টা করেও কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
বীর মুক্তিযোদ্ধার ওপর এমন অবমাননাকর ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি উঠেছে। বীর মুক্তিযোদ্ধাদের বিনামূল্যে চিকিৎসার নির্ধারিত বিধান থাকার পরও কেন আব্দুল কাইয়্যুমকে চিকিৎসা দেওয়া হলো না এবং গাড়ি থেকে নামিয়ে দেওয়ার অভিযোগ সত্য হলে এর দায়ভার কে নেবে—এখন তা নিয়েই প্রশ্ন তুলছেন স্থানীয়রা।

















