সারাদেশ

টঙ্গীতে থানার ভেতরেই ‘জয় বাংলা’ স্লোগান, ভিডিও মুছে দেওয়ার অভিযোগে প্রশ্ন

  অনলাইন সংস্করণ: 30 August 2026 , 3:32:54 প্রিন্ট সংস্করণ

গাজীপুরের টঙ্গীতে পৃথক অভিযানে ছাত্রলীগের পাঁচ নেতাকর্মীসহ ছয়জনকে গ্রেপ্তারের ঘটনায় নতুন করে আলোচনা তৈরি হয়েছে। গ্রেপ্তারদের আদালতে পাঠানোর সময় টঙ্গী পূর্ব থানার ভেতরেই তাদের স্বজন ও সমর্থকদের কয়েকজনকে প্রকাশ্যে ‘জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু, জয় জননেত্রী শেখ হাসিনা’ স্লোগান দিতে দেখা গেছে।

রোববার (৩০ আগস্ট) এ ঘটনা ঘটে। এ সময় থানার অভ্যন্তরে রাজনৈতিক স্লোগান এবং পরে গণমাধ্যমকর্মীদের ধারণ করা ভিডিও মুছে দেওয়ার অভিযোগ ঘিরে নানা প্রশ্ন উঠেছে।

প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের গাড়িতে তোলার সময় টঙ্গী পূর্ব থানার ভেতরে অপেক্ষমাণ কয়েকজন স্বজন ও সমর্থক এসব স্লোগান দেন। ঘটনাস্থলে উপস্থিত কয়েকজন সাংবাদিক পুরো ঘটনা মোবাইল ফোনে ধারণ করেন।

তবে অভিযোগ রয়েছে, পরে থানার দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের পক্ষ থেকে কয়েকজন গণমাধ্যমকর্মীকে ভিডিও মুছে দিতে বলা হয়। অভিযোগ অনুযায়ী, কয়েকটি মোবাইল ফোন থেকে ধারণ করা ভিডিও মুছে ফেলা হয়েছে।

ঘটনার পর স্থানীয়দের মধ্যে প্রশ্ন উঠেছে—আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নিয়ন্ত্রিত একটি থানার ভেতরে প্রকাশ্যে রাজনৈতিক স্লোগান দেওয়ার পরিস্থিতি কীভাবে তৈরি হলো? আর ভিডিও মুছে দেওয়ার অভিযোগ সত্য হলে, কোন কারণে গণমাধ্যমকর্মীদের ধারণ করা ফুটেজ অপসারণ করা হলো?

পুলিশ জানায়, রোববার পৃথক অভিযানে টঙ্গী পশ্চিম থানা এলাকায় পাঁচজন এবং টঙ্গী পূর্ব থানা এলাকায় একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

টঙ্গী পশ্চিম থানা থেকে গ্রেপ্তার পাঁচজন হলেন—বড় দেওরা এলাকার মন্ডল মার্কেটের বাসিন্দা মো. ফারুক (২৮), শেরপুরের ঝিনাইগাতীর আলামিন (৩১), নোয়াখালীর মাইজদীর সাকিবুল হোসেন ওরফে শাকিব (১৯), ঢাকার দোহার এলাকার শিহাব (২৭) এবং নেত্রকোনার মোহনগঞ্জের মিনহাজ মাসুম (২৮)।

পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, তাদের মধ্যে কয়েকজন ছাত্রলীগের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মী। অন্যদিকে, টঙ্গী পূর্ব থানার মরকুন মাস্টারপাড়া এলাকার বাসিন্দা মো. মতিনকে (৪৫) গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

টঙ্গী পূর্ব থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাকসুদুল আলম জানান, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইন অনুযায়ী মামলা করা হয়েছে এবং তাদের আদালতে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে।

তিনি বলেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে পুলিশ দায়িত্ব পালন করছে। নাশকতামূলক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের তদন্তের মাধ্যমে শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা হবে।

তবে থানার অভ্যন্তরে রাজনৈতিক স্লোগান এবং গণমাধ্যমকর্মীদের ভিডিও মুছে দেওয়ার অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের স্পষ্ট ব্যাখ্যা দাবি করেছেন স্থানীয়রা ও উপস্থিত কয়েকজন প্রত্যক্ষদর্শী।

এখন প্রশ্ন একটাই—থানার ভেতরের একটি প্রকাশ্য ঘটনার ভিডিও কেন মুছে ফেলার প্রয়োজন হলো?

আরও খবর

Sponsered content

নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির 'আদু ভাই' মো: ইকবাল গ্রেপ্তার

25 August 2026
« « « বিস্তারিত কমেন্টে » » »
Fb/newsnestbd
@newsnest
www.newsnest.com