চট্টগ্রাম

​”কুমিল্লায় হাইওয়ে পুলিশ ও পিবিআই অফিসের পাশেই দাপিয়ে বেড়াচ্ছে ছিনতাইকারীরা!”

  অনুসন্ধান প্রতিবেদন : 6 May 2026 , 6:41:21 212 বার পঠিতপ্রিন্ট সংস্করণ

কুমিল্লা নগরীর অন্যতম পরিকল্পিত ও অভিজাত আবাসিক এলাকা ‘হাউজিং এস্টেট’ এখন সাধারণ মানুষের জন্য আতঙ্কের জনপদে পরিণত হয়েছে। একসময়ের শান্ত ও নিরাপদ এই এলাকায় এখন সন্ধ্যার পর নামলেই শুরু হয় মাদকসেবী ও ছিনতাইকারীদের দাপট। বিশেষ করে মেডিকেল কলেজ রোড ও বাখরাবাদ রোড এলাকায় পথচারীরা প্রতিনিয়ত সর্বস্ব হারিয়ে নিঃস্ব হচ্ছেন।

অনুসন্ধানে জানা যায়, ১৯৯১ সালে আবাসিক এলাকার নিরাপত্তার স্বার্থে একটি পুলিশ ফাঁড়ি স্থাপন করা হয়েছিল। কিন্তু ২০০৯ সাল থেকে দীর্ঘ ১৫ বছর ধরে এটি পুরোপুরি অকার্যকর ও পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে আছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, বর্তমানে এই জীর্ণশীর্ণ পরিত্যক্ত নেই কোন কার্যক্রম।
প্রশাসনের উপস্থিতিতেই অনিরাপদ বাসিন্দারা: বিস্ময়কর বিষয় হলো, এই এলাকাতেই কুমিল্লা হাইওয়ে পুলিশ রিজিয়নের প্রধান কার্যালয় এবং পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (PBI)-এর মতো গুরুত্বপূর্ণ সংস্থার দপ্তর অবস্থিত। এত শক্তিশালী আইনপ্রয়োগকারী সংস্থার উপস্থিতির মাঝখানে থেকেও হাউজিং এস্টেট ও মেডিকেল কলেজ রোডে ছিনতাই এখন নিত্যনৈমিত্তিক ঘটনা। বাসিন্দাদের প্রশ্ন—প্রশাসনের এত কাছাকাছি থেকেও কেন সাধারণ মানুষকে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগতে হবে?
অস্ত্রের মুখে জিম্মি পথচারীরা: ভুক্তভোগীদের বর্ণনা অনুযায়ী, শুধু রাত নয়, ভোরবেলাতেও এই এলাকায় চলাচল করা দায় হয়ে পড়েছে। ছিনতাইকারীরা দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে অন্ধকার গলিতে ওত পেতে থাকে। কেউ বাধা দিতে চাইলে তাকে মারধর এমনকি ছুরিকাঘাত করতেও দ্বিধা করছে না তারা।
এক স্থানীয় বাসিন্দা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “সন্ধ্যার পর এই রাস্তা দিয়ে চলতে ভয় লাগে। প্রশাসনের এতগুলো অফিস এখানে, অথচ আমরা নিরাপদে বাড়ি ফিরতে পারি না—এটা চরম দুঃখজনক। আমরা কি ট্যাক্স দিয়ে শুধু ভয় পাওয়ার জন্য বাস করছি?”

নেই নিয়মিত টহল, বাড়ছে আতঙ্ক: এলাকাটি কোতোয়ালি মডেল থানার অধীনে থাকলেও বাসিন্দারা নিয়মিত পুলিশি টহলের অভাব বোধ করছেন। তাদের দাবি, পুলিশি তৎপরতা কেবল প্রধান সড়কেই সীমাবদ্ধ থাকে, ভেতরের গলিগুলোতে অপরাধীদের আনাগোনা থেকেই যায়।
ভুক্তভোগী ও স্থানীয় বাসিন্দাদের একটাই দাবি—অবিলম্বে পরিত্যক্ত পুলিশ ফাঁড়িটি সংস্কার করে সেখানে স্থায়ীভাবে পুলিশি কার্যক্রম শুরু করা হোক। সেই সাথে হাউজিং এস্টেট, বাখরাবাদ রোড ও মেডিকেল কলেজ রোডে নিয়মিত টহল জোরদার করে এই এলাকাকে মাদকমুক্ত ও নিরাপদ আবাসন হিসেবে ফিরিয়ে দেওয়া হোক।

আরও খবর

Sponsered content