নিজস্ব প্রতিবেদক, কুমিল্লা: 26 April 2026 , 9:47:52 91 বার পঠিতপ্রিন্ট সংস্করণ
কুমিল্লায় কাস্টমস কর্মকর্তা বুলেট বৈরাগী হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় জড়িত থাকার সন্দেহে চারজনকে আটক করেছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)। শনিবার রাত থেকে রোববার (২৬ এপ্রিল) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টা পর্যন্ত জেলার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়।
নিহত বুলেট বৈরাগী ৪১তম বিসিএস (নন-ক্যাডার) কর্মকর্তা এবং কুমিল্লার বিবিরবাজার স্থলবন্দরের সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা ছিলেন।
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কোটবাড়ি এলাকায় শনিবার সকালে তার রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
এ ঘটনায় কুমিল্লা সদর দক্ষিণ মডেল থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে।
র্যাব-১১-এর কোম্পানি অধিনায়ক মেজর সাদমান ইবনে আলম রোববার সন্ধ্যায় আটকের বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, জড়িতদের ধরতে অভিযান এখনও অব্যাহত রয়েছে। সোমবার সকাল সাড়ে ১০টায় প্রেস ব্রিফিংয়ের মাধ্যমে এ বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হবে।
এদিকে, হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটনে পুলিশের একাধিক টিম একযোগে কাজ করছে। কুমিল্লা সদর দক্ষিণ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সিরাজুল মোস্তফা জানিয়েছেন, ঘটনাটিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করা হচ্ছে এবং দ্রুত রহস্য উন্মোচনের চেষ্টা চলছে।
নিহত বুলেট বৈরাগী গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়া উপজেলার ডুমুরিয়া গ্রামের সুশীল বৈরাগীর ছেলে। তিনি পরিবার নিয়ে কুমিল্লা নগরের রাজগঞ্জ পানপট্টি এলাকায় বসবাস করতেন।
কাস্টমস কমিশনার আবদুল মান্নান জানান, বুলেট বৈরাগী চট্টগ্রামে ৪৪তম বুনিয়াদি প্রশিক্ষণ শেষে শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) রাত ১১টার দিকে অলঙ্কার মোড় থেকে বাসে করে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হন। যাত্রাপথে পরিবারের সঙ্গে তার নিয়মিত যোগাযোগ ছিল। রাত ১টা ২৫ মিনিটে তিনি ফোনে জানান, কুমিল্লা নগরীর টমছমব্রিজ চৌরাস্তার মোড়ে পৌঁছেছেন তিনি। এরপর থেকেই তার মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায় এবং পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।
পরদিন শনিবার (২৫ এপ্রিল) সকাল ৮টার দিকে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুমিল্লার কোটবাড়ি এলাকায় আইরিশ হোটেলের পাশে তার রক্তাক্ত মরদেহ পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয়রা হাইওয়ে পুলিশকে খবর দেয়। পরে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করে।
রোববার (২৬ এপ্রিল) কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মর্গে ময়নাতদন্ত শেষে বেলা সাড়ে ১১টার দিকে তার মরদেহ কুমিল্লা কাস্টমস, এক্সসাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেট কার্যালয়ে নেওয়া হয়। সেখানে সহকর্মীরা তাকে ফুল দিয়ে শেষ শ্রদ্ধা জানান এবং পরিবারের পাশে থাকার আশ্বাস দেন। পরে দুপুর ১২টায় মরদেহ নিজ বাড়ি গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় নেওয়ার সময় এক হৃদয়বিদারক দৃশ্যের অবতারণা হয়। স্বামীর লাশবাহী গাড়ির সামনে কান্নায় ভেঙে পড়েন স্ত্রী উর্মি হীরা।

















