সারাদেশ

ধর্ষণের শিকার কিশোরীর পরিচয় প্রকাশের অভিযোগ চকরিয়ার ওসির বিরুদ্ধে লিগ্যাল নোটিশ

  নুরুল ইসলাম সুমন, কক্সবাজার: 3 June 2026 , 9:29:14 80 বার পঠিতপ্রিন্ট সংস্করণ

File 000000000da871fd81b3e7ea4a54a300

ধর্ষণের শিকার এক কিশোরীর ছবি ও পরিচয় প্রকাশের অভিযোগে কক্সবাজারের চকরিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনির হোসেনের বিরুদ্ধে তদন্তপূর্বক বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবিতে লিগ্যাল নোটিশ পাঠানো হয়েছে।

বুধবার (৩ জুন) সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ও ন্যাশনাল ল ইয়ার্স কাউন্সিলের চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট এস. এম. জুলফিকার আলী জুনু স্বরাষ্ট্র সচিব, পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি), চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি এবং কক্সবাজারের পুলিশ সুপারের কাছে এ নোটিশ পাঠান।

নোটিশে উল্লেখ করা হয়, বিভিন্ন জাতীয় দৈনিক পত্রিকা, বিশেষ করে দৈনিক যুগান্তরসহ একাধিক গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনে জানা গেছে যে, ধর্ষণের শিকার এক কিশোরীর ছবি চকরিয়া থানার অফিসিয়াল ফেসবুক পেজে প্রকাশ করা হয়েছে। এ ঘটনায় চকরিয়া থানার ওসি মনির হোসেনের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে।

নোটিশে বলা হয়, ধর্ষণ ও যৌন নিপীড়নের শিকার ব্যক্তির পরিচয়, ছবি কিংবা এমন কোনো তথ্য প্রকাশ করা, যার মাধ্যমে ভিকটিমকে শনাক্ত করা সম্ভব, তা আইন, মানবাধিকার এবং ভিকটিম সুরক্ষার নীতিমালার পরিপন্থি। পাশাপাশি হাইকোর্ট বিভাগের বিভিন্ন নির্দেশনায়ও ধর্ষণ ও যৌন সহিংসতার শিকার ব্যক্তিদের পরিচয় গোপন রাখার বিষয়ে সুস্পষ্ট নির্দেশনা রয়েছে।

আইনজীবী এস. এম. জুলফিকার আলী জুনু বলেন, যদি গণমাধ্যমে প্রকাশিত অভিযোগ সত্য হয়ে থাকে, তবে সংশ্লিষ্ট কর্মকাণ্ড হাইকোর্টের নির্দেশনার লঙ্ঘন এবং ভুক্তভোগীর মৌলিক অধিকার পরিপন্থি হিসেবে বিবেচিত হবে। এ ধরনের ঘটনা ভিকটিমের মানসিক, সামাজিক ও ব্যক্তিগত নিরাপত্তাকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে।

লিগ্যাল নোটিশে পাঁচ দফা দাবি জানানো হয়েছে। দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে—ঘটনার বিষয়ে অবিলম্বে নিরপেক্ষ ও উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন, অভিযোগ প্রমাণিত হলে ওসি ও সংশ্লিষ্ট দায়ীদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ, ভিকটিমের ছবি ও পরিচয় শনাক্ত করা যায় এমন সব তথ্য অপসারণ, ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা প্রতিরোধে বাংলাদেশ পুলিশের সব ইউনিটের জন্য প্রয়োজনীয় নির্দেশনা জারি এবং নোটিশ পাওয়ার ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে গৃহীত পদক্ষেপ সম্পর্কে লিখিতভাবে অবহিত করা।

নোটিশে আরও বলা হয়েছে, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ না করা হলে জনস্বার্থে এবং সংবিধান ও আইন প্রদত্ত অধিকার বলে হাইকোর্টে রিট আবেদন করা হবে।

আরও খবর

Sponsered content