নড়াইল প্রতিনিধি : 29 March 2026 , 11:01:49 116 বার পঠিতপ্রিন্ট সংস্করণ
নড়াইলে পাম্পে তেল না থাকায় তেল দিতে না পারার জেরে বাগবিতণ্ডার একপর্যায়ে নাহিদ সর্দার (৩০) নামে এক পেট্রোল পাম্প ম্যানেজারকে ট্রাকচাপা দিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে এক ট্রাকচালকের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় জিহাদুল ইসলাম নামে আরও একজন গুরুতর আহত হয়েছেন।
শনিবার (২৮ মার্চ) দিবাগত রাত ২টা ২০ মিনিটের দিকে নড়াইল-যশোর মহাসড়কের তুলারামপুর এলাকায় মের্সাস তানভীর ফিলিং স্টেশনের পাশে মর্মান্তিক এই ঘটনা ঘটে।
নিহত নাহিদ সর্দার তুলারামপুর এলাকার মের্সাস তানভীর ফিলিং স্টেশনের ম্যানেজার। তিনি তুলারামপুর ইউনিয়নের পেড়লী গ্রামের আকরাম সর্দারের ছেলে। অন্যদিকে, গুরুতর আহত জিহাদুল ইসলাম তুলারামপুর গ্রামের জহুরুল মোল্যার ছেলে।
সুত্রে জানাযায় পাম্পের ক্যাশিয়ার মো. জসিমউদদীন জানান, রাতে মো. সুজাত নামে এক ট্রাকচালক পাম্পে তেল নিতে আসেন। কিন্তু পাম্পে মজুত না থাকায় তাকে তেল দেওয়া সম্ভব হয়নি। এ নিয়ে পাম্পের ম্যানেজার নাহিদের সঙ্গে ওই চালকের কথা কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে চালক সুজাত রেগে গিয়ে তাদের ট্রাকচাপার হুমকি দিয়ে পাম্পেই অবস্থান করতে থাকেন।
পাম্পের আরেক কর্মচারী মো. সোহান ইসলাম ঘটনার বর্ণনা দিয়ে বলেন, “রাত আনুমানিক ২টা ১৫ মিনিটের দিকে কাজ শেষে নাহিদ ভাই তার ভাইয়ের বন্ধু জিহাদুল ইসলামকে নিয়ে মোটরসাইকেলে করে বাড়ির দিকে রওনা দেন। এসময় চালক সুজাত ট্রাক ঘুরিয়ে তাদের পিছু নেয়। বিষয়টি সন্দেহজনক মনে হলে আমি আর ক্যাশিয়ার জসিমউদ্দীন ভাই আরেকটি মোটরসাইকেল নিয়ে তাদের পেছনে যাই। গিয়ে দেখি, সুজাত নাহিদ ভাইকে চাপা দিয়ে ট্রাক নিয়ে দ্রুত পালিয়ে যাচ্ছে।”
ঘটনাস্থলেই নাহিদ সর্দারের মৃত্যু হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় জিহাদুলকে উদ্ধার করে নড়াইল জেলা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করেন।
এই ঘটনাকে একটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড বলে দাবি করেছেন নিহত নাহিদ সর্দারের চাচাতো ভাই মঞ্জুর সর্দার। তিনি বলেন, “ট্রাক ড্রাইভার সুজাত পরিকল্পিতভাবে হুমকি দিয়ে আমার ভাইকে ট্রাক চাপা দিয়ে হত্যা করেছে। আমরা এর সুষ্ঠু বিচার চাই।”
নড়াইল থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ওলি মিয়া ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তুলারামপুর হাইওয়ে থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সেকেন্দার আলী জানিয়েছেন, অভিযুক্ত ট্রাকচালককে আটক এবং ঘাতক ট্রাকটি জব্দের জন্য পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।












