নিজস্ব প্রতিবেদক | রাউজান, চট্টগ্রাম: 26 April 2026 , 10:05:23 96 বার পঠিতপ্রিন্ট সংস্করণ
চট্টগ্রামের রাউজানে একের পর এক সহিংসতার ঘটনায় জনমনে তীব্র আতঙ্ক ও উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে। একদিনের ব্যবধানে আবারও গুলির ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন মো. নাছির উদ্দিন (৪৬) নামে বিএনপির এক অঙ্গসংগঠন যুবদলের সক্রিয় কর্মী।
গত রবিবার (২৬ এপ্রিল) রাত ১০টার দিকে উপজেলার কদলপুর ইউনিয়নের দক্ষিণ শমশের পাড়ায় এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। নিহত নাছির উদ্দিন ওই এলাকার মৃত দুদু মিয়ার ছেলে।
স্থানীয় ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, রবিবার রাতে দুর্বৃত্তরা নাছির উদ্দিনকে লক্ষ্য করে অতর্কিত গুলি চালায়। এতে তিনি গুরুতর আহত হন। গুলির আঘাত তার পেটে বিদ্ধ হয়। স্থানীয়রা দ্রুত তাকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় রাত সাড়ে ১১টার দিকে তাকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক ডা. মো. সাজ্জাদ হোসাইন জানান, নাছির উদ্দিনের শরীরে তিনটি গুলির চিহ্ন পাওয়া গেছে। এর মধ্যে দুটি গুলি পেটে বিদ্ধ হওয়ার কারণে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ ও গুরুতর জখম তাকে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দেয়।
ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে পুলিশ। রাউজান থানার ওসি সাজেদুল ইসলাম জানান, পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে তিনটি গুলির খোসা উদ্ধার করেছে। হামলায় জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। তবে তাৎক্ষণিকভাবে এই হত্যাকাণ্ডের নির্দিষ্ট কারণ সম্পর্কে পুলিশ কিছু জানাতে পারেনি।
এই ঘটনায় স্থানীয় বিএনপি ও যুবদলের নেতারা তীব্র নিন্দা ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। কদলপুর ইউনিয়ন বিএনপির হাফেজ আবুল হাসেম এ হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু বিচার দাবি করেছেন। চট্টগ্রাম উত্তর জেলা যুবদলের সহসভাপতি সাবের সুলতান কাজল ও রাউজান উপজেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক ফিরোজ আহমেদ জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।
রাউজানে সাম্প্রতিক সময়ে গুলির ঘটনা যেন নিত্যদিনের চিত্র হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই হত্যাকাণ্ডের ধারাবাহিকতায় উল্লেখ করা যেতে পারে:
২৪ এপ্রিল: শুক্রবার রাত ৩টার দিকে রাউজান পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা কাউছার উর জামান বাবলুকে গুলি করে হত্যা করা হয়।
২৫ ফেব্রুয়ারি: উপজেলার পূর্ব গুজরা ইউনিয়নের অলিমিয়াহাট বাজারে আবদুল মজিদ (৫০) নামে এক যুবদল কর্মীকে প্রকাশ্যে গুলি করে হত্যা করা হয়।
৫ জানুয়ারি: একই ইউনিয়নের অলিমিয়াহাট বাজারের কাছে মোটরসাইকেলে এসে গুলি করে যুবদল নেতা মুহাম্মদ জানে আলমকে (৪৮) হত্যা করা হয়।
টানা এমন হত্যাকাণ্ডের ফলে এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য প্রশাসনের প্রতি জোর দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।














