ডেস্ক রিপোর্ট: 1 April 2026 , 4:49:43 140 বার পঠিতপ্রিন্ট সংস্করণ
তামাক নিয়ন্ত্রণ অধ্যাদেশ সংশোধন করে ই-সিগারেট উৎপাদন ও বিক্রির ওপর থাকা নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের উদ্যোগ নিয়েছে বর্তমান সরকার। জীবনঘাতী এই পণ্যের ওপর থেকে বিধি-নিষেধ তুলে নেওয়ার এমন পরিকল্পনাকে ‘ভুল ও ঝুঁকিপূর্ণ’ হিসেবে অভিহিত করেছেন স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ও তামাকবিরোধী সংগঠনগুলো। তাদের মতে, এই সিদ্ধান্ত দেশের তরুণ প্রজন্মকে নতুন ধরনের নিকোটিন আসক্তির দিকে ঠেলে দেবে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে জারি করা ১৩৩টি অধ্যাদেশ পর্যালোচনার জন্য গঠিত সংসদীয় বিশেষ কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে এই পরিবর্তন আনা হচ্ছে। সংসদীয় কমিটির পরামর্শ অনুযায়ী স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় একটি খসড়া তৈরি করছে, যেখানে ই-সিগারেট নিষিদ্ধের বিধানগুলো বাদ দেওয়া হয়েছে। শিগগিরই এই খসড়া লেজিসলেটিভ ও সংসদ বিষয়ক বিভাগে পাঠানো হবে বলে জানা গেছে।
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, ই-সিগারেটের ফ্লেভার ও আকর্ষণীয় ডিজাইন তরুণদের প্রলুব্ধ করার জন্য তৈরি। এটি মূলত একটি ‘গেটওয়ে প্রোডাক্ট’, যা ব্যবহারকারীকে পরবর্তী সময়ে প্রচলিত সিগারেটে আসক্ত করে তোলে।
ই-সিগারেটের নিকোটিন ও টক্সিক কেমিক্যাল ফুসফুসের টিস্যু ক্ষতিগ্রস্ত করে এবং ক্যানসার, হৃদরোগ ও দীর্ঘমেয়াদি শ্বাসকষ্টের ঝুঁকি বাড়ায়।
ভারত, যুক্তরাজ্য, ব্রাজিলসহ বিশ্বের ৪৭টি দেশে ইতোমধ্যে ই-সিগারেট সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাও একে ক্ষতিকর হিসেবে চিহ্নিত করেছে।
তামাকবিরোধী সংগঠনগুলোর দাবি, বহুজাতিক তামাক কোম্পানিগুলোর ব্যবসার পথ প্রশস্ত করতেই এই নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার চেষ্টা চলছে। দেশে যখন প্রচলিত তামাক নিয়ন্ত্রণে কঠোর আইন হচ্ছে, তখন ই-সিগারেটকে বৈধতা দেওয়া সরকারের তামাক নিয়ন্ত্রণ নীতির সঙ্গে সরাসরি সাংঘর্ষিক।
উল্লেখ্য, গত বছরের জানুয়ারিতে জনস্বাস্থ্যের স্বার্থে ই-সিগারেট আমদানি নিষিদ্ধ করেছিল অন্তর্বর্তী সরকার। এরপর ২৩ ডিসেম্বর অনুমোদিত অধ্যাদেশে ই-সিগারেট বা ভ্যাপ উৎপাদন, বিক্রি ও পরিবহনের জন্য কঠোর শাস্তির বিধান রাখা হয়।
এই অপরাধে ৩ মাসের কারাদণ্ড বা ২ লাখ টাকা জরিমানার বিধান ছিল।
অপরাধী কোনো কোম্পানি হলে ৫ লাখ টাকা জরিমানা এবং লাইসেন্স বাতিলের কঠোর ধারা যুক্ত ছিল।
বিশেষজ্ঞদের মতে, সরকার যদি এই কঠোর অবস্থান থেকে সরে আসে, তবে তামাক নিয়ন্ত্রণে বাংলাদেশের এযাবৎকালের সব অর্জন ধূলিসাৎ হয়ে যেতে পারে। তারা জনস্বাস্থ্যের কথা বিবেচনা করে এই সিদ্ধান্ত দ্রুত পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানিয়েছেন।











