সর্বশেষ

ইউনিসেফের সতর্কবার্তা আমলে নেননি ইউনূস-নূরজাহান টিকা সংকটে বলি ৪৭৫ শিশু

  ডেস্ক রিপোর্ট : 21 May 2026 , 3:32:19 85 বার পঠিতপ্রিন্ট সংস্করণ

Tika 2605201304

দেশে টিকার মারাত্মক ঘাটতি এবং এর ফলে সৃষ্ট ভয়াবহ হামের প্রাদুর্ভাব নিয়ে চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ করেছে জাতিসংঘ শিশু তহবিল ইউনিসেফ। সংস্থাটি জানিয়েছে, সম্ভাব্য টিকা সংকট নিয়ে তারা বিগত অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে অন্তত ১০ বার সতর্ক করেছিল এবং একাধিক চিঠি দিয়েছিল। কিন্তু সময়মতো ব্যবস্থা না নেওয়া এবং টিকা ক্রয় পদ্ধতির নীতিগত পরিবর্তনের কারণে দেশে ভয়াবহ হামের প্রাদুর্ভাব ঘটে। এর ফলে চলতি বছরের প্রথম পাঁচ মাসেই ৪৭৫ জন শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে।

গত ২০ মে এক সংবাদ সম্মেলনে ইউনিসেফের বাংলাদেশ প্রতিনিধি রানা ফ্লাওয়ার্স এই ভয়াবহ পরিণতির পেছনের কারণ তুলে ধরেন। তিনি জানান, সম্ভাব্য সংকট সম্পর্কে জানাতে তারা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের স্বাস্থ্য উপদেষ্টা ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে অন্তত ১০টি জরুরি বৈঠক করেছিলেন। প্রতিটি বৈঠকেই তারা টিকার ঘাটতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন।
শুধু বৈঠকই নয়, ২০২৪ সাল থেকে শুরু করে ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ৫ থেকে ৬টি আনুষ্ঠানিক চিঠি দিয়েও সরকারকে সতর্ক করেছিল ইউনিসেফ। জাতীয় নির্বাচনের ঠিক দুদিন আগে, গত ১০ ফেব্রুয়ারি তৎকালীন স্বাস্থ্য উপদেষ্টা নূরজাহান বেগমকে সর্বশেষ চিঠিটি দেওয়া হয়, যাতে নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পরই বিষয়টি গুরুত্বের সাথে দেখতে প

সংবাদ সম্মেলনে ইউনিসেফ স্পষ্ট করেছে যে, এই সংকটের পেছনে অর্থ বা তহবিলের কোনো ঘাটতি ছিল না। মূল কারণ ছিল বিগত অন্তর্বর্তী সরকারের একটি নীতিগত সিদ্ধান্ত।
দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশ সরকার ইউনিসেফের মাধ্যমেই সরাসরি টিকা সংগ্রহ করে আসছিল। কিন্তু অন্তর্বর্তী সরকার সিদ্ধান্ত নেয় যে, তারা রাজস্ব বাজেটের আওতায় ‘উন্মুক্ত দরপত্র’ বা ওপেন টেন্ডারের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক বাজার থেকে টিকা কিনবে। ইউনিসেফের মতে, টিকা সাধারণ কোনো পণ্য নয় যে এটি সাধারণ টেন্ডারের মাধ্যমে দ্রুত কেনা সম্ভব। উন্মুক্ত দরপত্রের মাধ্যমে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার অনুমোদিত টিকা সংগ্রহ করতে প্রায় এক বছর সময় লেগে যায়। এই দীর্ঘসূত্রতাই দেশে টিকার মারাত্মক ঘাটতি তৈরি করে।

সময়মতো টিকা না আসায় দেশে শিশুদের রুটিন টিকাদান কর্মসূচি চরমভাবে ব্যাহত হয়। এর ফলশ্রুতিতে ২০২৬ সালের শুরুতেই দেশে বিগত কয়েক দশকের মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ হামের প্রাদুর্ভাব দেখা দেয়। ইউনিসেফের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের প্রথম পাঁচ মাসেই ৬০ হাজারেরও বেশি মানুষ হামে আক্রান্ত হয়, যাদের বিশাল অংশই শিশু। সবচেয়ে মর্মান্তিক বিষয় হলো, যথাসময়ে টিকা না পাওয়ার কারণে এই সময়ে ৪৭৫ জন শিশু প্রাণ হারায়।

গত ফেব্রুয়ারিতে নতুন সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর পরিস্থিতি পর্যালোচনায় এই গাফিলতি ও ভুল সিদ্ধান্তের বিষয়টি ধরা পড়ে। ফলশ্রুতিতে মার্চ মাসে উন্মুক্ত দরপত্র পদ্ধতি বাতিলের নির্দেশ দেওয়া হয়। এরপর এপ্রিলে পুনরায় ইউনিসেফের মাধ্যমে আগের পদ্ধতিতে দ্রুত টিকা সংগ্রহের সিদ্ধান্তে ফিরে যায় বাংলাদেশ।
ইউনিসেফ জানিয়েছে, সরকারের নতুন সিদ্ধান্তের পর চলতি মে মাস থেকে হামের রুটিন টিকা আবারও দেশে আসতে শুরু করেছে। তবে প্রশাসনিক দীর্ঘসূত্রতা ও ভুল সিদ্ধান্তের কারণে ঝরে যাওয়া ৪৭৫টি শিশুর প্রাণ জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনায় চরম অব্যবস্থাপনার একটি দৃষ্টান্ত হয়েই থাকবে।

আরও খবর

Sponsered content