সর্বশেষ

কুমিল্লার ভয়াবহ ট্রেন-বাস দুর্ঘটনা: তদন্তে একাধিক পক্ষের অবহেলা, নিরাপত্তায় ৮ দফা সুপারিশ

  নিজস্ব প্রতিবেদক : 30 March 2026 , 11:06:58 98 বার পঠিতপ্রিন্ট সংস্করণ

কুমিল্লার পদুয়ার বাজার লেভেলক্রসিংয়ে ২১ মার্চ রাত ৩টার দিকে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের ট্রেন ও বাস সংঘর্ষে ১২ জন নিহত এবং আটজন আহত হন। জেলা প্রশাসনের গঠিত তদন্ত কমিটি দুর্ঘটনার মূল কারণ হিসেবে বিভিন্ন দায়িত্বপরায়ণতার অবহেলা চিহ্নিত করেছে।

‎তদন্ত কমিটির প্রধান অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ জাফর সাদিক চৌধুরী ১১ পৃষ্ঠার প্রতিবেদন জেলা প্রশাসকের কাছে হস্তান্তর করেন। প্রতিবেদনে পদুয়ার বাজার রেলগেইটের চার গেইটম্যান, বিজয়পুর লেভেলক্রসিংয়ের দুই গেইটম্যান, লালমাই রেলস্টেশন মাস্টার, দুই লোকোমাস্টার, বাস চালক এবং সড়ক বিভাগের নির্মাণ কাজের দায়িত্বশীলদের অবহেলার বিষয়গুলো উল্লেখ করা হয়েছে। দুর্ঘটনার দিন পদুয়ার বাজারে দায়িত্বে থাকা মেহেদী হাসান ও হেলাল অনুপস্থিত ছিলেন। তারা এক হাজার টাকার বিনিময়ে কাউসার ও নাজমুলকে দায়িত্ব দেন। পূর্ববর্তী বিজয়পুর ক্রসিংয়ের মশিউর রহমান ও বাবুল হোসেন ট্রেন আসার তথ্য জানাতে ব্যর্থ হন। তাদের কললিস্ট পরীক্ষা করে দেখা গেছে, তারা ফোন করেননি। লালমাই স্টেশনে দায়িত্বে থাকা সহকারী স্টেশন মাস্টার মো. বশিরুল্লাহ পদুয়ার বাজারে ফোন করে সতর্ক করেননি।

‎ঢাকা মেইল ট্রেনের দুই লোকোমাস্টার সংকেত না পাওয়ায় গতি কমাননি। পদুয়ার বাজার লেভেল ক্রসিংয়ের ২০ ফুটের মধ্যে স্থাপনার কারণে বাস চালক ট্রেন দেখতে পাননি। বাস চালক শহিদুল ইসলাম গতি কমাননি এবং ঝুঁকিপূর্ণ লেভেল ক্রসিং অতিক্রম করার সময় ওভারপাস ব্যবহার করেননি। বাস কর্তৃপক্ষেরও দায় রয়েছে। দুর্ঘটনার পর তিন গেইটম্যানকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদনে দুর্ঘটনা প্রতিরোধে আটটি সুপারিশ করা হয়েছে। লেভেল ক্রসিংয়ে গেইটগুলো নিয়মিত মনিটরিং করা, গেইটম্যানদের ডোপ টেস্ট নেওয়া এবং মাদকাসক্ত প্রমাণিত হলে চাকরিচ্যুতি করা, সিগন্যাল লাইট ও ঘণ্টার বৈদ্যুতিক সংযোগ সচল রাখা, গেইটম্যানদের স্বাস্থ্যকর পরিবেশ ও আসবাবপত্র নিশ্চিত করা, সড়ক কর্তৃপক্ষকে রেলের সঙ্গে সমন্বয় করা, দীর্ঘমেয়াদি রেল ব্যারিকেড ও স্বয়ংক্রিয় রেল সিগন্যাল ব্যবস্থা, বাস চলাচল সঠিকভাবে নিয়ন্ত্রণ এবং বিআরটিএ’র নিয়মিত তদারকি নিশ্চিত করা।

‎তদন্ত কমিটি জানিয়েছে, গোপনীয়তার কারণে কিছু তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। দুর্ঘটনার তদন্তে গেইটম্যান, স্টেশন মাস্টার, লোকোমাস্টার, বাস চালক এবং সড়ক বিভাগের দায়িত্বশীলদের অবহেলা স্পষ্টভাবে প্রমাণিত হয়েছে। প্রতিবেদনে বাস ও রেলের কর্মকর্তাদের পাশাপাশি সড়ক ও জনপথ বিভাগেরও দায়িত্বের বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছে। প্রতিবেদনের সুপারিশ বাস্তবায়ন হলে ভবিষ্যতে এমন দুর্ঘটনা ও প্রাণহানি রোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা সম্ভব হবে।

আরও খবর

Sponsered content