বিশেষ প্রতিনিধি : 24 April 2026 , 5:55:46 96 বার পঠিতপ্রিন্ট সংস্করণ
সাম্প্রতিক এক সমালোচনায় সলিমুল্লাহ খানের বুদ্ধিবৃত্তিক অবস্থান ও চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যকে ফরাসি মনোবিশ্লেষক জাক লাকাঁর থিসিসের আলোকে বিশ্লেষণ করা হয়েছে। সেখানে সলিমুল্লাহ খানকে একজন ‘শার্লাতান’ বা হাতুড়ে পণ্ডিত হিসেবে অভিহিত করে তাঁর সমালোচনা পদ্ধতিকে ‘প্যারানোয়েড সাইকোসিস’ বা একপ্রকার মানসিক বিভ্রমের বহিঃপ্রকাশ হিসেবে দাবি করা হয়েছে।
লাকাঁর থিসিস ও সলিমুল্লাহর ‘ছুরি’ লাকাঁর ডক্টরাল থিসিস ছিল প্যারানয়া ও ব্যক্তিত্বের সম্পর্ক নিয়ে। সেখানে মার্গারিট প্যান্টেইন নামক এক নারীর ঘটনা উল্লেখ আছে, যিনি প্রখ্যাত অভিনেত্রী ইগেট দুফলোকে বিনা কারণে ছুরি মেরেছিলেন। লাকাঁ একে বলেছিলেন ‘সেলফ-পানিশমেন্ট প্যারানয়া’।
অর্থাৎ, প্যান্টেইন আসলে অভিনেত্রী দুফলোর মতো হতে চেয়েছিলেন (আইডিয়াল ইগো), কিন্তু হতে না পেরে নিজের সেই অপূর্ণতাকে আঘাত করতেই দুফলোকে আঘাত করেছিলেন।
এই তত্ত্বের প্রয়োগ ঘটিয়ে বলা হয়েছে: সলিমুল্লাহ খানের ‘আইডিয়াল ইগো’ বা আদর্শ সত্তা হলেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, নোয়াম চমস্কি এবং হুমায়ুন আজাদ।
প্যান্টেইন যেমন লোহা দিয়ে আঘাত করেছিলেন, সলিমুল্লাহ তেমন তাঁর ‘জিহ্বা’ নামক বিষাক্ত ছুরি দিয়ে এই মনীষীদের আঘাত করছেন।
রবীন্দ্রনাথকে লালনের চেয়ে খাটো করা বা চমস্কিকে ভাষাবিজ্ঞান না জানা ব্যক্তি হিসেবে চিহ্নিত করা আসলে সলিমুল্লাহর নিজের ভেতরের অবদমিত আকাঙ্ক্ষা ও ব্যর্থতারই প্রতিফলন।
‘আইডিয়াল ইগো’ ও ফেসবুকের ‘জ্ঞানমাস্তান’, বক্তব্যে সলিমুল্লাহর পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের একদল সমালোচককেও এক হাত নেওয়া হয়েছে। লেখকের দাবি, ফেসবুকে যারা তাঁকে নিয়ে চিৎকার করে, তারা আসলে মনে মনে তাঁর মতোই হতে চায়। লেখক তাদের কাছে ‘আইডিয়াল ইগো’ বা ইনার ইমেজ। কিন্তু তাঁর মতো চিন্তা বা লেখা তৈরি করতে না পেরে তারা প্যান্টেইনের মতো ছুরি হাতে (সমালোচনা নিয়ে) তেড়ে আসে। এটি তাদের ‘পার্সেকিউটিড সাইকি’রই একটি বহিঃপ্রকাশ।
‘সলিমুল্লাগিরি’: এক নতুন রোগ, তীব্র ভাষায় সমালোচনা করা হয়েছে সলিমুল্লাহর পঠনপাঠন নিয়ে।
সলিমুল্লাহ খান মূল গ্রন্থ পড়ার চেয়ে সেকেন্ডারি লিটারেচার ও উইকিপিডিয়া ঘেঁটে ‘নেইম-ড্রপিং’ (বড় বড় নাম নেওয়া) করে শ্রোতাদের চমকে দিতে পছন্দ করেন।
এ দেশের একটি বিশাল অডিয়েন্সকে ‘স্টুপিড পিপল’ বা নির্বোধ হিসেবে আখ্যা দিয়ে বলা হয়েছে, তারা যাচাই না করেই এসব ‘ছুরি চালানো’র গল্প বিশ্বাস করে।
সলিমুল্লাগিরি’ বলতে মূলত বই না পড়ে বা না বুঝে কেবল জ্ঞানী সাজার জন্য মহৎ লেখক ও গ্রন্থের নাম নেওয়াকে বোঝানো হয়েছে।
আহমদ ছফার প্রসঙ্গ ও সাংস্কৃতিক বিপর্যয়, বক্তব্যে দাবি করা হয়েছে, সলিমুল্লাহ হয়তো আহমদ ছফাকেও ঠিকমতো পড়েননি। তিনি আহমদ ছফার ‘আইডিয়াল ইগো’ হিসেবে রবীন্দ্রনাথ বা আজাদকে কল্পনা করে ছফার অসম্পূর্ণ কাজ নিজের কাঁধে তুলে নেওয়ার অভিনয় করছেন। লেখক শেষ করেন এই বলে যে, গভীর সাংস্কৃতিক বিপর্যয় না এলে এই ধরনের ‘প্যারানয়া’র রোগী নিয়ে কথা বলার প্রয়োজন হতো না।
দ্যা মোরাল অফ দ্যা স্টোরি : কোনো বড় লেখককে না পড়ে কেবল সস্তা জনপ্রিয়তা বা নিজেকে গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণের জন্য তাদের চরিত্রহনন করাকেই ‘সলিমুল্লাগিরি’ হিসেবে সংজ্ঞায়িত করা হয়েছে। লেখকের মতে, সত্যিকারের জ্ঞান অর্জন মানুষকে বিনয়ী করে, ‘চিংড়ি-নৃত্য’ করতে শেখায় না।
>





