নিজস্ব প্রতিবেদক: 1 April 2026 , 9:59:05 174 বার পঠিতপ্রিন্ট সংস্করণ
কুমিল্লার চান্দিনা উপজেলা ভূমি অফিসে সহকারী কমিশনার (ভূমি) ফয়সাল আল নূরের রোষানলে পড়ে দুই সাংবাদিককে যে তিক্ত অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হতে হয়েছে। বুধবার (১ এপ্রিল) দুপুরের এই ঘটনা শুধু দুই সাংবাদিককে হেনস্তাই নয়, বরং স্বাধীন সাংবাদিকতার ওপর এক বড় আঘাত হিসেবে দেখছেন স্থানীয়রা।
ঘটনার নেপথ্যে ছিল একটি সাধারণ ‘নামজারি’র শুনানি। ভুক্তভোগী সাংবাদিক আব্দুল আলীমের অভিযোগ, তার এক আত্মীয়ের নামজারি নিয়ে গত এক বছর ধরে টালবাহানা করছিলেন এসি ল্যান্ড ফয়সাল আল নূর। বুধবার শুনানির বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন। সেই আচরণের ভিডিও ধারণ করতে গেলেই বাধে বিপত্তি। সাংবাদিকের হাত থেকে মোবাইল কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন খোদ ম্যাজিস্ট্রেট। এরপর পুলিশ ডেকে এনে সাধারণ অপরাধীর মতো হাতকড়া পরিয়ে তাদের থানায় পাঠানো হয়।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ আরও গুরুতর। থানায় নেওয়ার পর তাদের অপরাধীর মতো আটকে রেখে মোবাইলের লক খুলতে বাধ্য করা হয়। এরপর গ্যালারি থেকে এসি ল্যান্ডের সেই ‘উত্তেজিত’ মুহূর্তের সব ভিডিও ও ছবি মুছে ফেলা হয়। শেষে ‘বাড়াবাড়ি করব না’ মর্মে মুচলেকা দিয়ে তবেই মুক্তি মেলে দৈনিক মানবজমিন ও দৈনিক আমার শহর-এর এই দুই প্রতিনিধির।
চান্দিনা থানার ওসি আতিকুর রহমান সরাসরি দায় চাপিয়েছেন ম্যাজিস্ট্রেটের আদেশের ওপর। তিনি জানান, নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের আদেশ পালন করতেই তারা সাংবাদিকদের হাতকড়া পরিয়ে থানায় এনেছিলেন। এদিকে, এসি ল্যান্ড ফয়সাল আল নূরকে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি রহস্যজনকভাবে নীরব রয়েছেন।
“সাংবাদিকরা কি চোর-ডাকাত যে তাদের হাতকড়া পরাতে হবে?” কুমিল্লা প্রেসক্লাবের সভাপতি কাজী এনামুল হক ফারুক ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন,
“সাংবাদিকরা ভুল করলে প্রেস কাউন্সিলের মাধ্যমে ব্যবস্থা নেওয়া যেত, কিন্তু হাতকড়া পরিয়ে পেশাদারিত্বকে অপমান করা হয়েছে।”
পুরো ঘটনায় অস্বস্তিতে পড়েছে জেলা প্রশাসনও। অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. সাইফুল ইসলাম স্বীকার করেছেন যে ঘটনাটি অত্যন্ত ‘বিব্রতকর’। তদন্ত সাপেক্ষে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিলেও প্রশ্ন থেকে যায়— একজন সরকারি কর্মকর্তার ব্যক্তিগত জেদের খেসারত কেন পেশাদার সাংবাদিকদের দিতে হবে?











