সর্বশেষ

ফেসবুকে স্ট্যাটাস নিয়ে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ: নাতির মৃত্যু সংবাদে দাদার মৃত্যু

  ডেস্ক রিপোর্ট : 22 March 2026 , 5:50:56 67 বার পঠিতপ্রিন্ট সংস্করণ

চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া একটি স্ট্যাটাসকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের সংঘর্ষে শিমুল (২৫) নামে এক যুবক নিহত হয়েছেন। এদিকে নাতির মৃত্যুর খবর শুনে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে (স্ট্রোক) মারা গেছেন তার দাদা নাজিম উদ্দিন কাজি (৭০)। একই পরিবারে দুই সদস্যের এমন মৃত্যুতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

শনিবার (২১ মার্চ) বিকেলে চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা উপজেলার ছাত্রপাড়া গ্রামে এই ভয়াবহ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। নিহত শিমুল ওই গ্রামের লাবু হোসেনের ছেলে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ছাত্রপাড়া গ্রামের সেকেন্দার আলীর ছেলে হৃদয় ঢাকা থেকে ফেসবুকে একটি স্ট্যাটাস দেন। এই পোস্টকে কেন্দ্র করে গ্রামে দু’টি পক্ষের মধ্যে চরম উত্তেজনা ও বিরোধের সৃষ্টি হয়। ঈদের দুদিন আগে হৃদয় ঢাকা থেকে গ্রামে ফিরলে সেই উত্তেজনা কয়েকগুণ বেড়ে যায়।
ঈদের দিন (শনিবার) সকাল থেকেই গ্রামের হান্নান ও জাহাঙ্গীর গ্রুপের মধ্যে উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় চলতে থাকে। একপর্যায়ে বিকেল নাগাদ উভয় পক্ষ দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। সংঘর্ষ চলাকালীন শিমুল গুরুতর আহত হন। স্থানীয়রা তাকে দ্রুত উদ্ধার করে কুষ্টিয়া সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সন্ধ্যায় তার মৃত্যু হয়।
শোক সইতে পারলেন না দাদা নাতির নিহতের খবর গ্রামে পৌঁছালে পরিবারে কান্নার রোল পড়ে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, শিমুলের মৃত্যুর সংবাদ শোনামাত্রই তার বৃদ্ধ দাদা নাজিম উদ্দিন কাজি তীব্র মানসিক আঘাত পান এবং স্ট্রোকে আক্রান্ত হন। কিছুক্ষণ পরেই তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন।

আলমডাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বানী ইসরাইল ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান “ফেসবুক স্ট্যাটাসকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে এই সংঘর্ষের সূত্রপাত। খবর পেয়েই ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে। জড়িতদের চিহ্নিত করে গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।”

বর্তমানে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। তবে এই ঘটনায় এখনো কোনো লিখিত মামলা দায়ের করা হয়নি বলে জানিয়েছে পুলিশ।

আরও খবর

Sponsered content