সর্বশেষ

কুমিল্লায় অবৈধ জ্বালানি তেলের বিরুদ্ধে অভিযান উপজেলা প্রশাসনের অর্থদন্ড

  কুমিল্লা জেলা প্রতিনিধি : 19 April 2026 , 9:52:44 74 বার পঠিতপ্রিন্ট সংস্করণ

জ্বালানি তেলের বাজারে কৃত্রিম সংকট, অননুমোদিত মজুদ ও কালোবাজারি প্রতিরোধে কুমিল্লার সদর দক্ষিণ উপজেলায় কঠোর অভিযান পরিচালনা করেছে উপজেলা প্রশাসন। রবিবার (১৯ এপ্রিল) দুপুর আড়াইটা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত চৌয়ারা ইউনিয়নের কয়েকটি প্রতিষ্ঠানে এই অভিযান চালানো হয়। অভিযানে ভোক্তা অধিকার ও পেট্রোলিয়াম আইন লঙ্ঘনের দায়ে দুটি প্রতিষ্ঠানকে মোট ৬০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

সদর দক্ষিণ উপজেলার উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) জনাব সুজন চন্দ্র রায়-এর প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানে এবং সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট জনাব সজীব তালুকদারের নেতৃত্বে এই অভিযান পরিচালিত হয়।
হোসেন এন্টারপ্রাইজকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা
অভিযান চলাকালে চৌয়ারা ইউনিয়নের ১৯ নং ওয়ার্ডের অন্তর্গত রাজাপাড়া, উত্তর চৌমুহনী এলাকার ‘হোসেন এন্টারপ্রাইজ’-এ অভিযান চালানো হয়। প্রতিষ্ঠানটির স্বত্বাধিকারী মো. হোসেনের বিরুদ্ধে নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে অধিক মূল্যে জ্বালানি তেল বিক্রি এবং লাইসেন্সবিহীন ব্যবসা পরিচালনার প্রমাণ পাওয়া যায়।
এই অপরাধে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন, ২০০৯ অনুযায়ী তাকে ৫০,০০০ (পঞ্চাশ হাজার) টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়। এছাড়া, প্রতিষ্ঠানটিতে মজুদ থাকা ৪৮ লিটার অক্টেন উপস্থিত ক্রেতাদের মাঝে সরকার নির্ধারিত মূল্যে (ক্রেতাপ্রতি সর্বোচ্চ ২ লিটার করে) বিক্রির নির্দেশ দেন এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট।
অবৈধ মজুদ ও অসহযোগিতার দায়ে জরিমানা
অভিযানে অপর একটি প্রতিষ্ঠানের স্বত্বাধিকারী মো. জসীম উদ্দীনকে (৩৮) ১০,০০০ (দশ হাজার) টাকা জরিমানা করা হয়। রাজাপাড়ার বল্লভপুর এলাকার মৃত শামছুল হকের ছেলে জসীম উদ্দীনের বিরুদ্ধে গোপন স্থানে (বাসায়) জ্বালানি তেল মজুদ করার অভিযোগ ছিল।
ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে স্থান পরিদর্শন ও তদন্তের সময় তিনি বিভ্রান্তিকর ও মিথ্যা তথ্য দিয়ে বাধা প্রদান এবং অসহযোগিতা করেন। এছাড়া লাইসেন্স ছাড়াই দাহ্য পেট্রোলিয়াম পণ্য (পেট্রোল/ডিজেল/অকটেন) অবৈধভাবে সংরক্ষণ এবং অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ অননুমোদিত পাত্রে তা বিক্রি করার দায়ে পেট্রোলিয়াম আইন, ২০১৬-এর ২০(২) ধারা অনুযায়ী তাকে এই অর্থদণ্ড দেওয়া হয়। প্রশাসনের মতে, তার এই কর্মকাণ্ড জননিরাপত্তার জন্য মারাত্মক হুমকিস্বরূপ ছিল।
জ্বালানি তেলের কৃত্রিম সংকট ও কালোবাজারি রোধে সদর দক্ষিণ উপজেলা প্রশাসন তাদের জিরো টলারেন্স নীতির কথা পুনর্ব্যক্ত করেছে। উপজেলা প্রশাসন জানিয়েছে, জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ও ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।
অভিযানে সার্বিক আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় ও সহায়তায় উপস্থিত ছিলেন সিপিসি-২, র‍্যাব, কুমিল্লা-এর সিনিয়র এএসপি ও স্কোয়াড কমান্ডার জনাব মিঠুন কুমার কুণ্ডু, র‍্যাবের অন্যান্য সদস্যবৃন্দ এবং বিপুল সংখ্যক স্থানীয় জনসাধারণ।

আরও খবর

Sponsered content