অনলাইন সংকরণ: 17 April 2026 , 3:14:20 126 বার পঠিতপ্রিন্ট সংস্করণ
লেবানন ও ইসরায়েলের চলমান সংঘাতের মধ্যে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আকস্মিক ‘যুদ্ধবিরতি’ ঘোষণায় ক্ষোভে ফেটে পড়েছে ইসরায়েল। দেশটির মন্ত্রিসভা কোনো আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগেই ট্রাম্প এই ঘোষণা দেওয়ায় সরকার এবং সামরিক বাহিনীর উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের মধ্যে চরম অস্বস্তি ও বিব্রতকর পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরার এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে।
ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যমগুলোর দাবি, তেল আবিব যখন যুদ্ধবিরতির শর্তাবলি নিয়ে নিজেদের মধ্যে আলোচনা করছিল, ঠিক তখনই ওয়াশিংটন থেকে এই ঘোষণা আসে। মন্ত্রিসভার সদস্যদের মতামত বা চূড়ান্ত অনুমোদন ছাড়াই ট্রাম্পের এমন একপাক্ষিক পদক্ষেপে ক্ষুব্ধ ইসরায়েলি নেতারা। তাদের মতে, এটি ইসরায়েলের সার্বভৌম সিদ্ধান্তের ওপর হস্তক্ষেপের শামিল।
ঘোষণার সময় ইসরায়েলি সেনাবাহিনী লেবাননের অভ্যন্তরে অবস্থান করছিল এবং নিয়মিত হামলা চালাচ্ছিল। এমন পরিস্থিতিতে আকস্মিক যুদ্ধবিরতির ঘোষণা বাহিনীর মনোবলে নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে বলে মনে করছেন সামরিক বিশ্লেষকরা। সেনাবাহিনীর একটি অংশ মনে করছে, লক্ষ্য অর্জনের আগেই যুদ্ধ বন্ধ করা এক ধরনের পরাজয়।
ইসরায়েলি জনগণের একটি বড় অংশ এবং কট্টরপন্থী নেতারা এখনই যুদ্ধ বন্ধ করার বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। তাদের দাবি, হিজবুল্লাহর সক্ষমতা পুরোপুরি নির্মূল না করে যুদ্ধবিরতি করা ঠিক হয়নি। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ইসরায়েলি বাহিনী যুদ্ধবিরতির প্রস্তুতি নিচ্ছিল ঠিকই, কিন্তু নিজেরা ঘোষণা দেওয়ার আগেই যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে চাপিয়ে দেওয়া এই ঘোষণা তাদের জন্য অপমানজনক ও বিব্রতকর হয়ে দাঁড়িয়েছে।
ট্রাম্পের এই ঘোষণার পর তেল আবিব এখন হোয়াইট হাউসের সঙ্গে কীভাবে সমন্বয় করবে, তা নিয়ে ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে। একদিকে যুক্তরাষ্ট্রের চাপ, অন্যদিকে অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক অসন্তোষ—সব মিলিয়ে এক কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছেন প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু।












