নিজস্ব প্রতিবেদক: 15 April 2026 , 6:27:56 96 বার পঠিতপ্রিন্ট সংস্করণ
হাম সংক্রমণের প্রাদুর্ভাব এবং সাধারণ রোগীর উপচে পড়া ভিড়ে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ (কুমেক) হাসপাতালের শিশু বিভাগে এখন তিল ধারণের ঠাঁই নেই। শয্যা সংকটে অসুস্থ শিশুদের চিকিৎসা চলছে হাসপাতালের বারান্দা ও মেঝেতে। অথচ এই চরম সংকটের মধ্যেও জনবল আর আমলাতান্ত্রিক জটিলতায় দীর্ঘ দেড় বছর ধরে তালাবদ্ধ অবস্থায় পড়ে আছে কুমিল্লার পদুয়ার বাজারের নবনির্মিত ১০০ শয্যার বিশেষায়িত শিশু হাসপাতাল।
বর্তমানে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চিত্র অত্যন্ত উদ্বেগজনক। ৪০ শয্যার বিপরীতে এখানে প্রতিদিন ধারণক্ষমতার চেয়ে তিনগুণ বেশি শিশু ভর্তি থাকছে। সরেজমিনে দেখা গেছে সাধারণ ওয়ার্ড তো বটেই, এমনকি বারান্দা ও মেঝেতেও বিছানা পেতে শিশুদের চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। হামের প্রকোপ বাড়ায় নতুন তিনটি আইসোলেশন ইউনিট খোলা হলেও তা চাহিদার তুলনায় নগণ্য। কুমিল্লা ছাড়াও চাঁদপুর, ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও নোয়াখালী থেকে আসা মুমূর্ষু শিশুদের নিয়ে অভিভাবকরা পড়ছেন বিপাকে।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া থেকে আসা এক শিশুর মা মর্জিনা বেগম জানান, শয্যা না পেয়ে সংকটাপন্ন শিশুকে নিয়ে বারান্দায় অবস্থান করতে হচ্ছে। একই করুণ দশা চাঁদপুর থেকে আসা শিশু সিয়ামের পরিবারেরও।
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের পাশে পদুয়ার বাজার বেলতলীতে প্রায় ৩৬ কোটি ৫৩ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত আধুনিক শিশু হাসপাতাল ভবনটি ২০২৪ সাল থেকে পুরোপুরি প্রস্তুত। কিন্তু অভিযোগ রয়েছে, কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের শিশু বিভাগ নাকি সিভিল সার্জন কার্যালয়—কে এই হাসপাতালের দায়িত্ব নেবে, তা নিয়ে দীর্ঘদিনের রশি টানাটানিতেই আটকে আছে এর কার্যক্রম।
বর্তমানে তিন একর জমির ওপর দাঁড়িয়ে থাকা এই বিশাল ভবনটিতে কোনো চিকিৎসক, নার্স বা প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম নেই। ফলে কোটি কোটি টাকার সম্পদ কাজে আসছে না জনসেবায়।
কুমেক হাসপাতালের শিশু বিভাগীয় প্রধান মিয়া মনজুর আহমেদ বলেন, “নতুন হাসপাতালটি চালু হলে আমরা সংক্রমিত রোগীদের আলাদা রেখে উন্নত সেবা দিতে পারতাম, যা কুমেক হাসপাতালের ওপর চাপ অনেকাংশে কমিয়ে দিত।”
তবে দীর্ঘসূত্রতা কাটিয়ে সম্প্রতি হাসপাতালটির দায়িত্ব বুঝে নিয়েছে কুমিল্লা সিভিল সার্জন কার্যালয়। এ বিষয়ে সিভিল সার্জন ডা. আলী নূর মোহাম্মদ বশির আহমেদ জানান “আমরা জনবল এবং যন্ত্রপাতির চাহিদাপত্র মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছি। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ দ্রুত ব্যবস্থা নিলে খুব অল্প সময়ের মধ্যেই আমরা এটি চালু করতে পারব।”
কুমিল্লার শিশু স্বাস্থ্যসেবার এই সংকট নিরসনে দ্রুত জনবল নিয়োগ দিয়ে পদুয়ার বাজারের বিশেষায়িত হাসপাতালটি সচল করাই এখন সময়ের দাবি।












