সর্বশেষ

চৌদ্দগ্রামে দুই গ্রামের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ: মহাসড়ক রণক্ষেত্র, ২০ কি:মি: যানজট

  কুমিল্লা প্রতিনিধ : 5 April 2026 , 10:57:32 95 বার পঠিতপ্রিন্ট সংস্করণ

কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম পৌর এলাকায় আধিপত্য বিস্তার ও পূর্ববিরোধকে কেন্দ্র করে দুই গ্রামের বাসিন্দাদের মধ্যে ভয়াবহ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। শনিবার (৪ এপ্রিল) রাত ১০টার দিকে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ করে উত্তর শ্রীপুর ও গোমার বাড়ি গ্রামের শত শত মানুষ এই সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। এতে মহাসড়কের দুই পাশে প্রায় ২০ কিলোমিটার দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়, যা গভীর রাত পর্যন্ত স্থায়ী ছিল।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ১৫ মার্চ দুই গ্রামের যুবকদের মধ্যে একটি তুচ্ছ ঘটনা নিয়ে প্রথম বিরোধের সূত্রপাত হয়। এর ধারাবাহিকতায় গত বুধবার রাতেও একবার সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। সেই ঘটনার মাত্র ৭২ ঘণ্টার মাথায় শনিবার রাত ১০টার দিকে পুনরায় দুই পক্ষ লাঠিসোঁটা ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে মহাসড়কে অবস্থান নেয়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সংঘর্ষ চলাকালীন পুরো এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। দুই পক্ষই চার্জ লাইট জ্বালিয়ে একে অপরের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। এসময় মহাসড়কে শতাধিক ককটেল বিস্ফোরণের শব্দে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। সংঘর্ষের মাঝখানে পড়ে বেশ কিছু দূরপাল্লার যানবাহন ভাঙচুরের শিকার হয়।
চৌদ্দগ্রাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানা গেছে, রাত ১২টা পর্যন্ত উভয় পক্ষের অন্তত ২০-৩০ জন আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে এসেছেন। এদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাদের উন্নত চিকিৎসার জন্য কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
মহাসড়ক বন্ধ থাকায় চট্টগ্রামের দিকে মিয়াবাজার এবং ঢাকার দিকে পদুয়া পর্যন্ত দীর্ঘ ২০ কিলোমিটার এলাকায় শত শত যানবাহন আটকা পড়ে। বিশেষ করে নারী, শিশু ও অ্যাম্বুলেন্স যাত্রীরা চরম ভোগান্তিতে পড়েন।

চৌদ্দগ্রাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু মোহাম্মদ কাউসার জানান, সংঘর্ষের খবর পাওয়ার পরপরই পুলিশের একাধিক টিম ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা চালায়। তিনি বলেন, “আমরা টিয়ার শেল ও ফাঁকা গুলি ছুড়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করছি। মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক করতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।”
রাত ১টা নাগাদ পুলিশ পরিস্থিতি আংশিক নিয়ন্ত্রণে আনলে ধীরগতিতে যানবাহন চলাচল শুরু হয়। তবে এলাকায় এখনো থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। পুনরায় সংঘর্ষ এড়াতে গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে পুলিশ অবস্থান নিয়েছে।

আরও খবর

Sponsered content