সর্বশেষ

কুমিল্লায় রাতের আঁধারে লাকসাম ক্রসিং হাইওয়ে পুলিশের ‘চাঁদা উৎসব’, অতিষ্ঠ চালকরা

  নিজস্ব প্রতিবেদক: 4 April 2026 , 6:17:04 444 বার পঠিতপ্রিন্ট সংস্করণ

লাকসাম-কুমিল্লা-নোয়াখালী-চাঁদপুর আঞ্চলিক মহাসড়কের লাকসাম ক্রসিং এলাকায় রাতের অন্ধকার নামলেই বদলে যায় হাইওয়ে পুলিশের রূপ। ডিউটির নামে সরকারি গাড়ি নিয়ে মহাসড়কে ওত পেতে থাকে পুলিশের টহলরত টিম। রাত ১টা থেকে ভোর পর্যন্ত চলে পণ্যবাহী ট্রাক ও কাভার্ডভ্যান থেকে প্রকাশ্য চাঁদাবাজি। নিয়ম রক্ষার টহলের আড়ালে খোদ পুলিশের এই ‘চাঁদা উৎসবে’ অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছেন সাধারণ চালক ও পরিবহন শ্রমিকরা।

সরেজমিনে অনুসন্ধানে দেখা যায়, কুমিল্লা ও চাঁদপুরমুখী গোলচত্বর টহলরত পুলিশের সদস্যরা অবস্থান নেন। দূর-দূরান্ত থেকে আসা কাঁচামালবাহী ট্রাকগুলো মোড় নিতে গেলেই থামানোর সংকেত দেয় পুলিশ। এরপর শুরু হয় তল্লাশির নামে দর কষাকষি। কাগজের ত্রুটি থাকুক বা না থাকুক, ‘চা-নাস্তার খরচ’ হিসেবে নির্দিষ্ট অংকের টাকা না দিয়ে কোনো গাড়ি পার হতে পারে না।
উত্তরবঙ্গ থেকে চাঁদপুর জেলায় সবজি নিয়ে আসা ট্রাক চালক আমিনুর রশিদ তার তিক্ত অভিজ্ঞতা তুলে ধরে বলেন “আমি মাল আনলোড করে ফেরার পথে লালমাই  মোড়ে পুলিশ আমাকে থামায়। আমার সব কাগজপত্র ঠিক থাকার পরও একজন কনস্টেবল এসে বলেন— ‘যা আছে দিয়ে যান’। আমি হতভম্ব হয়ে  গেলে তারা সাফ জানিয়ে দেয়, ‘আমাদের চা-নাস্তার জন্য টাকা দিতে হবে’। কোনো উপায় না দেখে শেষমেশ টাকা দিয়েই সেখান থেকে মুক্তি পেয়েছি।”

আমিনুর রশিদের মতো শত শত চালকের একই অভিযোগ। তাদের দাবি, দিনরাত কষ্ট করে পণ্য পরিবহন করলেও মহাসড়কের বিভিন্ন পয়েন্টে পুলিশের এই চাঁদাবাজি  তাদের উপার্জনকে শুষে নিচ্ছে।
এসব গুরুতর অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে লাকসাম ক্রসিং  হাইওয়ে  থানার ইনচার্জ (আইসি) “আদিলুর” সরাসরি অভিযোগগুলো অস্বীকার করেন।
তিনি বলেন “আমি  ২৭ তারিখ থেকে নিয়মিত ওই স্পটে দায়িত্ব পালন করছি। এমনকি আমাদের সার্কেল স্যারও উপস্থিত থাকেন। চাঁদাবাজির মতো কোনো ঘটনা সেখানে ঘটার সুযোগ নেই।”

জনমনে প্রশ্ন: থানা প্রধানের এই দাবি আর রাজপথের বাস্তব চিত্র সম্পূর্ণ বিপরীত। প্রতিবেদকের সরজমিনে  প্রত্যক্ষ চিত্র এবং সাধারণ চালকদের বর্ণনায় উঠে আসা এই দৃশ্য পুলিশের ভাবমূর্তিকে চরম সংকটে ফেলেছে। মহাসড়কে শৃঙ্খলা ফেরানোর কারিগররা যখন নিজেরাই আর্থিক অনিয়মে জড়িয়ে পড়েন, তখন সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা কোথায়—এখন এটাই বড় প্রশ্ন।

আরও খবর

Sponsered content