ডেস্ক রিপোর্ট: 1 April 2026 , 5:06:31 131 বার পঠিতপ্রিন্ট সংস্করণ
জাতীয় সংসদে ‘জুলাই আদেশ’-এর আইনি বৈধতা নিয়ে কঠোর সমালোচনা করেছেন আইনমন্ত্রী আসাদুজ্জামান। তিনি এই আদেশকে আইনি ভিত্তিহীন এবং ‘কালারেবল লেজিসলেশন’ (Colorable Legislation) হিসেবে অভিহিত করে বলেছেন, এটি মূলত সংবিধানের ওপর একটি প্রতারণা বা ‘ফ্রড অন দ্য কনস্টিটিউশন’।
মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমেদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সংসদ অধিবেশনে জুলাই সনদ ও সংবিধান সংস্কার নিয়ে বিরোধী দলের মুলতবি প্রস্তাবের ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
৭২-এর সংবিধানই মূল ভিত্তি বিরোধী দলের সদস্যদের উদ্দেশে আইনমন্ত্রী বলেন, “আপনারা বলছেন ৭২-এর সংবিধান মানেন না, অথচ এই সংসদের সদস্য হিসেবে আপনারা শপথ নিয়েছেন ওই সংবিধানের আলোকেই। জুলাই আদেশের ১২ ধারাতেই জুলাই সনদকে সংবিধানে অন্তর্ভুক্ত করার কথা বলা হয়েছে। তার মানে ৭২-এর সংবিধানই আমাদের মূল ভিত্তি। এই সংবিধানকে সামনে রেখেই আমরা প্রয়োজনীয় যাবতীয় সংশোধনী আনতে পারব।”
জুলাই সনদ ও রাজনৈতিক দ্বিমুখিতা জুলাই সনদের বাস্তবায়ন নিয়ে বিরোধী দলের অবস্থানের সমালোচনা করে মন্ত্রী বলেন, “আমরা যারা বিএনপি করি, আমরা জুলাই বিপ্লবীদের আবেগ ও জন-আকাঙ্ক্ষাকে ধারণ করি। জুলাই সনদের ২২ অনুচ্ছেদে ৫ শতাংশ নারী প্রার্থীর কথা বলা আছে যা বিএনপি পালন করেছে। কিন্তু আপনারা মুখে জুলাই সনদের কথা বললেও নির্বাচনে একজন নারী প্রার্থীকেও মনোনয়ন দেননি। এমনকি সনদের ২৩ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী আপনাদের ডেপুটি স্পিকার পদের প্রস্তাব দেওয়া হলেও আপনারা তা গ্রহণ করেননি।”
‘জুলাই আদেশ’ কেন অবৈধ? আইনমন্ত্রী আসাদুজ্জামান জুলাই আদেশ কেন আইন নয়, তার ব্যাখ্যা দিয়ে বলেন, “জেনারেল ক্লজেস অ্যাক্ট অনুযায়ী যেকোনো আদেশের একটি আইনি সমর্থন (Legal Backing) থাকতে হয়। এই আদেশের কোনো আইনি ভিত্তি নেই। সংবিধানে যে ক্ষমতা দেওয়া হয়নি, এখানে সেই ক্ষমতার অপব্যবহার করা হয়েছে। চতুর্থ তফসিলের মাধ্যমে রাষ্ট্রপতির আদেশ দেওয়ার ক্ষমতা অনেক আগেই বন্ধ হয়ে গেছে।”
শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা ও কমিটি গঠন বক্তব্যের এক পর্যায়ে মন্ত্রী আসাদ-বাচ্চু থেকে শুরু করে জুলাই বিপ্লবের আবু সাঈদ-মুগ্ধ-ওয়াসিমসহ ৩ হাজার পঙ্গু যোদ্ধার ত্যাগের কথা কৃতজ্ঞতার সাথে স্মরণ করেন। তিনি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দেওয়া বিশেষ সংসদীয় কমিটি গঠনের প্রস্তাবকে সমর্থন জানিয়ে বলেন, “বিরোধী দলের ৭৭ জন এমপির বিপরীতে ২১৯ জন এমপির প্রতিনিধিরা সমান সমান (৫০-৫০) সদস্য পাবে—এমন দাবি বৈষম্যমূলক। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর প্রস্তাব অনুযায়ী একটি বিশেষ কমিটি গঠন করা হোক, যেখানে আমরা চুলচেরা বিশ্লেষণ করে এমন একটি সংশোধনী আনব যা ইতিহাসে মাইলফলক হয়ে থাকবে।”












