সিনিয়র রিপোর্টার, মীর্জা ফসিহ্ উদ্দিন: 23 March 2026 , 12:38:32 1997 বার পঠিতপ্রিন্ট সংস্করণ
কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলার মোকাম গ্রামের ছেলে মাহমুদুল হাসান ফয়সাল। স্বপ্ন ছিল পুলিশে যোগ দিয়ে দেশের সেবা করবেন।
২০২২ সালে আবেদন ২৩ সালে অনুষ্ঠিত লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ
২০২৪ সালের নিয়োগ পরীক্ষায় উত্তীর্ণ
২০২৩ ও ২০২৪—টানা দুই বছর পুলিশের কনস্টেবল নিয়োগ পরীক্ষায় অংশ নিয়ে সব কটি ধাপে (লিখিত, ভাইভা, মেডিকেল ও ফিটনেস) সফলভাবে উত্তীর্ণ হন তিনি। কিন্তু মেধাতালিকায় নাম থাকার পরও রহস্যজনক কারণে নিয়োগপত্র মেলেনি তার। অভিযোগ উঠেছে, তৎকালীন জেলা পুলিশ সুপার আব্দুল মান্নানের কারনে রাজনৈতিক বলির পাঠা।
পিতা বিএনপি সমর্থক তকমা লাগিয়ে ফয়সালকে চাকুরী দেয় নি।
অনুসন্ধানে জানা যায়, ২০২৩ সালের ১১ ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিত নিয়োগ প্রক্রিয়ায় মাহমুদুল হাসান ফয়সাল সকল পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার পর পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সের তৎকালীন অতিরিক্ত ডিআইজি (আর এন্ড সিপি) তার নিয়োগের বিষয়ে ইতিবাচক সংকেত দিয়েছিলেন। কিন্তু তৎকালীন কুমিল্লার পুলিশ সুপার আব্দুল মান্নান তাকে নিয়োগ দেননি।
২০২৪ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারী ফয়সাল হাল না ছেড়ে আবারও পরীক্ষায় বসেন। বিস্ময়করভাবে তিনি আবারও সব পরীক্ষায় সেরা তালিকায় স্থান করে নেন। কিন্তু সেবারও ২০২৪ সালের তৎকালীন জেলা পুলিশ সুপার আব্দুল মান্নান তাকে নিয়োগ প্রদান থেকে বিরত থাকেন। একই ব্যক্তির ক্ষেত্রে দুইবার এমন ঘটনা ঘটার বিষয়টিকে ‘সুস্পষ্ট অনিয়ম’ ও ‘ব্যক্তিগত আক্রোশ’ হিসেবে দেখছেন।
মাহমুদুল হাসান ফয়সাল বলেন, “আমি সব পরীক্ষায় পাস করেছি, আমার কোনো অপরাধ নেই। শুধু রাজনৈতিক তকমা দিয়ে আমার স্বপ্ন ভেঙে দেওয়া হয়েছে। আমি এর বিচার চাই।”
তদন্তের মুখে এক লাখ কনস্টেবল নিয়োগ
এদিকে, পুলিশ সদর দপ্তর গত এক দশকে (২০০৪-২০২৪) নিয়োগ পাওয়া প্রায় এক লাখ কনস্টেবলের নিয়োগ প্রক্রিয়া পুনরায় তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে। আইজিপি মো. আলী হোসেন ফকির স্বাক্ষরিত আদেশে ৬৪ জেলার এসপিদের নিয়ে গঠিত তদন্ত কমিটি এখন খতিয়ে দেখবে, কতজন যোগ্য প্রার্থীকে হাসান ফয়সালের মতো বাদ দেওয়া হয়েছে। রাজনৈতিক প্রভাবে কতজন অযোগ্য ব্যক্তি বাহিনীতে ঢুকেছে নিয়োগের ক্ষেত্রে তৎকালীন এসপি ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ভূমিকা কী ছিল।
পুলিশ সদর দপ্তরের এক উর্ধ্বতন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ” ফয়সালের মতো যারা বারবার বঞ্চিত হয়েছেন, তাদের বিষয়টি গুরুত্বের সাথে দেখা হবে। আমাদের কাছে তথ্য আছে যে, অনেক ক্ষেত্রে ডিআইজি পর্যায় থেকে নির্দেশনা থাকলেও স্থানীয় এসপিরা ক্ষমতার অপব্যবহার করেছেন।”
মোকাম গ্রামের বাসিন্দাদের মতে, ফয়সালের পরিবার কোনো ধরনের রাষ্ট্রবিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়িত নয়। তার বাবা আবুল হোসেন একজন বিএনপির সমর্থক,
এলাকাবাসী মনে করেন, এই মেধাবী তরুণের ওপর যে অবিচার করা হয়েছে, তা বর্তমান সরকারের সংস্কার প্রক্রিয়ায় অবশ্যই সংশোধন করা উচিত।
ইতিমধ্যেই ১৬ মার্চ থেকে শুরু হওয়া এই তদন্ত প্রক্রিয়া জেলা পর্যায়ে গতি পেয়েছে। তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন জমা পড়লে হাসান ফয়সালের মতো বঞ্চিতদের নিয়োগের পথ সুগম হতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।
ইতিমধ্যেই মোহাম্মদ হাসান ফয়সাল প্রধানমন্ত্রীর নিকট তাকে নিয়োগ দেওয়ার জন্য আবেদন জানিয়েছে এবং এই নিয়োগ না দেওয়ার পেছনে যারা জড়িত তাদেরকে আইনের আওতায় এবং ক্ষমতার অপব্যবহার করারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।













