সর্বশেষ

কুমিল্লা জেলা গোয়েন্দা পুলিশের অভিযানে আন্তঃজেলা গরু চোর চক্রের ৪ সদস্য আটক

  নিজস্ব প্রতিবেদক : 4 January 2026 , 11:46:54 170 বার পঠিতপ্রিন্ট সংস্করণ

কুমিল্লা জেলা গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) এক বিশেষ অভিযানে আন্তঃজেলা অভ্যাসগত গরু চোর ও ডাকাত চক্রের চার সক্রিয় সদস্যকে গ্রেফতার করা হয়েছে। অভিযানে উদ্ধার করা হয়েছে ৮টি চোরাই গাভী গরু, একটি পিকআপ ভ্যান এবং চুরি ও ডাকাতিতে ব্যবহৃত বিভিন্ন দেশীয় অস্ত্র ও সরঞ্জাম।

পুলিশ সূত্র জানায়, সাম্প্রতিক সময়ে কুমিল্লার প্রান্তিক এলাকা ও পার্শ্ববর্তী কয়েকটি জেলায় একই কৌশলে ধারাবাহিক গরু চুরি ও ডাকাতির ঘটনা ঘটছিল। এসব ঘটনার প্রেক্ষিতে কুমিল্লা জেলার পুলিশ সুপারের নির্দেশনায় জেলার বিভিন্ন থানায় গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করা হয় এবং গুরুত্বপূর্ণ স্থানে চেকপোস্ট বসানো হয়।

এরই ধারাবাহিকতায়, রোববার (৪ জানুয়ারি) রাত আনুমানিক ৩টা ২০ মিনিটে সদর দক্ষিণ মডেল থানাধীন জাঙ্গালিয়া এলাকায় অবস্থানকালে জেলা গোয়েন্দা শাখার একটি চৌকস দল গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানতে পারে—একটি সংঘবদ্ধ গরু ডাকাত চক্র ফেনী থেকে ব্রাহ্মণপাড়ার দিকে চোরাই গরু নিয়ে পিকআপ ভ্যানে করে যাত্রা করছে।

সংবাদটি যাচাই করে তাৎক্ষণিক বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে ডিবি পুলিশ আন্তঃজেলা চোর/ডাকাত চক্রের চার সদস্যকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়। অভিযানে বিভিন্ন জাতের মোট ৮টি গাভী গরু, একটি পিকআপ ভ্যান এবং চুরি ও ডাকাতির কাজে ব্যবহৃত দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করা হয়।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতারকৃতরা চান্দিনা ও লাকসাম থানার বিভিন্ন এলাকায় সংঘটিত গরু ডাকাতির ঘটনায় নিজেদের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেছে বলে পুলিশ জানায়। তাদের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট থানায় নিয়মিত মামলা দায়ের করা হয়েছে। একই সঙ্গে আসামিদের পূর্ববর্তী অপরাধ রেকর্ড যাচাই এবং চক্রের পলাতক সদস্যদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

গ্রেফতারকৃতরা হলেন—
ফাইবুল মাহমুদ ওরফে সিফাত (১৯), মো. বেলাল (৪২), মো. নুর নবী সুমন (২৫) এবং মো. রাহাত ওরফে রাজু (২৮)। এদের মধ্যে কয়েকজনের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

উদ্ধারকৃত আলামতের মধ্যে রয়েছে একটি নীল-হলুদ রঙের পিকআপ ভ্যান (মূল্য আনুমানিক ২০ লাখ টাকা), একটি দেশীয় এলজি, কার্তুজ, কুড়াল, হাসুয়া, চাপাতি, লোহার রড, কাটারসহ বিভিন্ন দেশীয় অস্ত্র এবং ডাকাতির সময় সংকেত দিতে ব্যবহৃত রকেট প্যারাসুট ফ্লেয়ার।

এ বিষয়ে কুমিল্লার পুলিশ সুপার বলেন,
“আমরা দীর্ঘদিন ধরে এই চক্রটির ওপর নজরদারি করছিলাম। তারা ঢাকা, চট্টগ্রাম, ফেনী, নোয়াখালী ও কুমিল্লা-সিলেট মহাসড়কসহ বিভিন্ন এলাকায় পরিকল্পিতভাবে গরু চুরি ও ডাকাতি চালিয়ে আসছিল। গ্রেফতারকৃতরা আন্তঃজেলা চোর চক্রের সক্রিয় সদস্য। আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় এ ধরনের অভিযান আরও জোরদার করা হবে।”

পুলিশের এই অভিযানে এলাকায় স্বস্তি ফিরেছে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।

আরও খবর

Sponsered content