নিজস্ব প্রতিবেদক: 23 October 2025 , 6:48:20 1175 বার পঠিতপ্রিন্ট সংস্করণ
এএসআই জামশেদ-অমানের বিরুদ্ধে ফাঁদে ফেলার অভিযোগে তদন্তে গাফিলতি নিয়ে প্রশ্ন
কুমিল্লা সদর দক্ষিণের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে সাংবাদিক মহলে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। স্থানীয়ভাবে আলোচিত ও বিতর্কিত “সাজানো ফাঁদে টাকা আদায়ের” ঘটনায় অভিযুক্ত দুই পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠার এক সপ্তাহ পেরিয়ে গেলেও সদর দক্ষিণ সার্কেল কর্মকর্তার পক্ষ থেকে এখনো পর্যন্ত কোনো তদন্ত বা পদক্ষেপ দেখা যায়নি— যা নিয়ে ক্ষোভ ও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন সাংবাদিক ও সুশীল সমাজ।
গত ১৬ অক্টোবর দুপুরে কুমিল্লা সদর দক্ষিণ থানার আওতাধীন সুয়াগাজী এলাকায় এক ব্যবসায়ী আমিনের ফার্মে পরিকল্পিতভাবে ৩-৪ ঘণ্টা আটকে রেখে সাজানো ফাঁদ তৈরি করে মাদক রেখে তাকে ব্ল্যাকমেইল করে টাকা আদায়ের অভিযোগ ওঠে থানার এএসআই জামশেদ ও কনস্টেবল আমানের বিরুদ্ধে।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, তারা সিভিল পোশাকে ঘটনাস্থলে গিয়ে নিজেদের পরিচয় গোপন করেন। পরে জানা যায়, তারা সদর দক্ষিণ থানার পুলিশ সদস্য। ঘটনাস্থলে ব্যবহৃত সিএনজি অটোরিকশার চালক ছিলেন বামিশার শাহীন, যিনি স্থানীয়ভাবে পরিচিত একজন ব্যক্তি।
“সেদিন বিকেলে তারা আমার ফার্মে এসে এক ইনফরমারের মাধ্যমে ভেতরে মাদক রেখে ফাঁসানোর ভয় দেখায়। পরে মামলা না দেয়ার শর্তে ৩ লাখ টাকা দাবি করে। পরে অনেক অনুরোধে ২ লাখ ৯০ হাজার টাকা নিয়ে চলে যায়।” – ব্যবসায়ী আমিন
সাংবাদিকরা এএসআই জামশেদকে সাতবার ফোন দিলেও তিনি কোনো কল রিসিভ করেননি। কনস্টেবল আমানকেও ফোনে পাওয়া যায়নি। এমনকি সদর দক্ষিণ সার্কেল অফিসারকে ফোন ও হোয়াটসঅ্যাপে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি কল রিসিভ করেননি। হোয়াটসঅ্যাপে পাঠানো বার্তা ‘সিন’ করলেও কোনো উত্তর দেননি।
সাংবাদিক মহলে প্রশ্ন উঠেছে: “একজন সার্কেল অফিসার এত গুরুতর অভিযোগ জেনেও কেন নীরব? তিনি কি তদন্তে বাধাগ্রস্ত, নাকি ইচ্ছাকৃতভাবে বিষয়টি এড়িয়ে যাচ্ছেন?”
সদর দক্ষিণ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সেলিম আহমেদ বলেন, “আমি আমার ফোর্সকে বলেছি— কেউ অপকর্মে জড়িত থাকলে তার দায় আমি নেব না। থানার মধ্যে কোনো আসামি এলে মামলা দিতে হবে, টাকা নিয়ে ছাড়ানো যাবে না। থানার বাইরে কেউ কিছু করলে সেটা তার ব্যক্তিগত দায়।”
তবে সাংবাদিকরা প্রশ্ন তুলেছেন— একজন থানার ওসি হিসেবে তাঁর অধীনস্থ সদস্যদের বিষয়ে তিনি কি শুধু “বলেছি” বলেই দায়িত্ব শেষ করতে পারেন?
এত গুরুতর অভিযোগ, সাংবাদিকদের হাতে অডিও ও তথ্য উপাত্ত থাকা সত্ত্বেও সদর দক্ষিণ সার্কেল অফিসারের ভূমিকা এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু। তারা প্রশ্ন করছেন— ‘একজন সার্কেল অফিসারের দায়িত্ব হলো থানার তদারকি ও তদন্তে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা। অথচ এক সপ্তাহেও তিনি নড়েচড়ে বসেননি। ফোন বা বার্তার উত্তর দেননি। তাহলে জনগণ ন্যায়বিচার কোথায় পাবে?’
সুশীল সমাজ ও ব্যবসায়ী মহল বলছেন, “ঘটনার সত্যতা যাচাই করে দোষীদের শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। সার্কেল কর্মকর্তার নীরবতা প্রশাসনিক দায়িত্বহীনতার দৃষ্টান্ত হতে পারে।”










