নিজস্ব প্রতিবদেক: 28 March 2026 , 7:29:50 84 বার পঠিতপ্রিন্ট সংস্করণ
২০২৬ সালের ঈদুল ফিতরের আনন্দ ম্লান করে দিয়ে দেশের সড়ক-মহাসড়কগুলোতে চলছে মৃত্যুর মহোৎসব। গত ১০ দিনের (১৭ মার্চ থেকে ২৬ মার্চ ভোর পর্যন্ত) ঈদযাত্রায় সারাদেশে সড়ক দুর্ঘটনায় অন্তত ২৭৪ জন নিহত হয়েছেন। সড়ক নিরাপত্তা নিয়ে কাজ করা বেসরকারি সংগঠন ‘রোড সেফটি ফাউন্ডেশন’ (RSF) শুক্রবার (২৭ মার্চ) এক বিবৃতিতে এই ভয়াবহ পরিসংখ্যান তুলে ধরেছে।
রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের তথ্য অনুযায়ী মোট সড়ক দুর্ঘটনা: ৩৪২টি। নিহত ২৭৪ জন (গড়ে প্রতিদিন প্রায় ২৭ জন)। আহতের সংখ্যা: ১,৫০০ জনেরও বেশি। মোটরসাইকেল দুর্ঘটনা: মোট নিহতের একটি বড় অংশই মোটরসাইকেল আরোহী। মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন অন্তত ১১১ জন, যা মোট নিহতের ৪০ শতাংশের বেশি।
উল্লেখ্য যে, বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির ভিন্ন একটি পরিসংখ্যানে (২৭ মার্চ পর্যন্ত) নিহতের সংখ্যা ৩০৯ জন এবং ৯ শতাধিক আহতের কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
গত ১০ দিনে কয়েকটি মর্মান্তিক ঘটনা দেশজুড়ে শোকের ছায়া ফেলেছে পদুয়ার বাজার ট্র্যাজেডি (২১ মার্চ): কুমিল্লার পদুয়ার বাজার এলাকায় একটি ট্রেনের সাথে যাত্রীবাহী বাসের ভয়াবহ সংঘর্ষে ১২ জন নিহত হন। এই ঘটনায় রেলওয়ের দুইজন গেটকিপারকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। দৌলতদিয়া ফেরিঘাট দুর্ঘটনা (২৫ মার্চ): রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া ঘাটে পন্টন থেকে একটি বাস পদ্মা নদীতে পড়ে গিয়ে শিশু ও নারীসহ ২৬ জন প্রাণ হারান। কুমিল্লায় একই পরিবারের ৪ জন (২৭ মার্চ): কুমিল্লার সদর দক্ষিণ এলাকায় বাস ও প্রাইভেট কারের সংঘর্ষে একই পরিবারের ৪ জনসহ মোট ৫ জন নিহত হন।
গত বছরের সাথে তুলনায় ২০২৫ সালের ঈদুল ফিতরের ১১ দিনের ঈদযাত্রায় নিহতের সংখ্যা ছিল ২৪৯ জন। সেই তুলনায় ২০২৬ সালে দুর্ঘটনার সংখ্যা এবং নিহতের হার—উভয়ই উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।
প্রশাসনের পক্ষ থেকে মহাসড়কে নিরাপত্তা জোরদার করার দাবি জানানো হলেও, সাধারণ যাত্রীদের মধ্যে আতঙ্ক কমছে না। পরিবহন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শুধুমাত্র উৎসবের সময় নয়, বছরজুড়েই টেকসই সড়ক ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত না করলে এই মৃত্যুমিছিল থামানো সম্ভব নয়।















