অনলাইন ডেস্ক: 11 June 2025 , 11:33:57 253 বার পঠিতপ্রিন্ট সংস্করণ
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর গতকাল মঙ্গলবার জানিয়েছে, ১০১টি নমুনা পরীক্ষা
করে ১৩ জনের দেহে করোনা ভাইরাস শনাক্ত হয়েছে।
রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের (আইইডিসিআর) কোভিড-১৯ নজরদারি তথ্য বিশ্লেষণে দেখা গেছে, মে মাসে সংক্রমণের হার ব্যাপকভাবে বেড়েছে। ওই মাসে পরীক্ষা করা ১ হাজার ৪০৯টি নমুনার মধ্যে ৯.৫১ শতাংশ পজিটিভ এসেছে, যা জানুয়ারি ২০২৩-এর পর সর্বোচ্চ।
আইসিডিডিআর,বি-ও জানিয়েছে, গত মাসে কোভিড-১৯ আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। তবে তাদের বিজ্ঞানীরা জোর দিয়ে বলেছেন, এখনই সাধারণ মানুষের জন্য বড় ধরনের উদ্বেগের কোনো কারণ নেই। তবে কোভিড-১৯ সংক্রান্ত স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার পরামর্শ দিয়েছেন তারা।
আইসিডিডিআর,বি এবং আইইডিসিআরের যৌথভাবে পরিচালিত হাসপাতালভিত্তিক ইনফ্লুয়েঞ্জা নজরদারি গবেষণায় দেখা গেছে, এপ্রিল মাসে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রথমবারের মতো দুটি নতুন ওমিক্রন সাব-ভ্যারিয়েন্ট এক্সএফজি ও এক্সএফসি শনাক্ত হয়েছে।
আইসিডিডিআর,বি-র সোমবার প্রকাশিত এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, গবেষণায় অংশ নেওয়া হাসপাতালগুলোতে পরীক্ষা করা রোগীদের প্রায় ৭ শতাংশের দেহে নতুন ধরনের করোনা ভাইরাস পাওয়া গেছে। চলতি বছরের শুরুতে যখন সংক্রমণের হার প্রায় শূন্য ছিল, তখনকার তুলনায় বর্তমান হার অনেক বেশি।
এ বিষয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সংক্রামক রোগ নিয়ন্ত্রণ শাখার পরিচালক অধ্যাপক ডা. হালিমুর রশীদ বলেন, যেসব হাসপাতালে আরটি-পিসিআর ল্যাব রয়েছে, সেগুলোতে করোনা পরীক্ষা পুনরায় চালুর প্রস্তুতি নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও জানান, স্থানীয় কোম্পানিগুলো থেকে করোনা পরীক্ষার কিট সংগ্রহ করা হচ্ছে। পাশাপাশি বিদেশ থেকে টেস্ট কিট আনতে সেন্ট্রাল মেডিকেল স্টোরস ডিপো (সিএমএসডি)-কে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আগামী ১০ দিনের মধ্যে করোনা পরীক্ষার ব্যবস্থা পুনরায় চালু করা সম্ভব হবে বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।
তিনি বলেন, প্রথম পর্যায়ে শুধুমাত্র আরটি-পিসিআর সুবিধাসম্পন্ন মেডিকেল কলেজ ও জেলা হাসপাতালগুলোতে করোনা পরীক্ষা শুরু হবে। যেসব রোগীর কোভিড-১৯-এর লক্ষণ থাকবে অথবা চিকিৎসকরা পরীক্ষার পরামর্শ দেবেন, শুধুমাত্র তারাই এই পরীক্ষা করতে পারবেন।
এদিকে, গত ৬ জুন স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় মাস্ক ব্যবহারের নির্দেশিকা জারি করেছে। এরপর বাংলাদেশ রেলওয়ে এবং মেট্রোরেল কর্তৃপক্ষও যাত্রীদের মাস্ক পরার অনুরোধ জানিয়েছে।
উল্লেখ্য, বাংলাদেশে ২০২০ সালের ৮ মার্চ প্রথম করোনা ভাইরাস শনাক্ত হয় এবং এর ১০ দিন পর প্রথম মৃত্যুর ঘটনা ঘটে। এরপর থেকে দেশে মোট ২০ লাখ ৫১ হাজারের বেশি মানুষ আক্রান্ত হয়েছেন এবং ২৯ হাজার ৪৯৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে ২০২১ সাল ছিল সবচেয়ে ভয়াবহ, যখন সংক্রমণ ও মৃত্যুর সংখ্যা সর্বোচ্চ ছিল।











