আর্ন্তজাতিক

যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় যুদ্ধবিরতি শেষ, পাল্টা আক্রমণে ইরান

  আন্তর্জাতিক ডেস্ক: 8 May 2026 , 8:46:51 81 বার পঠিতপ্রিন্ট সংস্করণ

দীর্ঘ প্রতীক্ষিত শান্তি প্রক্রিয়াকে ধূলিসাৎ করে দিয়ে মধ্যপ্রাচ্যে আবারও রণদামামা বেজে উঠেছে। পারস্য উপসাগরের কেশম দ্বীপে মার্কিন যুদ্ধজাহাজের হামলার পর যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি আনুষ্ঠানিকভাবে ভেস্তে গেছে। এরপর থেকেই পারস্য উপসাগর এবং তৎসংলগ্ন এলাকায় উভয় পক্ষ একে অপরের ওপর পাল্টাপাল্টি ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়ে যাচ্ছে।

বৃহস্পতিবার শেষরাত থেকে উত্তেজনার সূত্রপাত হয়। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, মার্কিন নৌবাহিনীর অন্তত তিনটি যুদ্ধজাহাজ ইরানের কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ কেশম (Qeshm) দ্বীপে সরাসরি হামলা চালায়। পেন্টাগনের দাবি, পারস্য উপসাগরে মার্কিন জাহাজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই এই ‘প্রতিরক্ষামূলক’ হামলা চালানো হয়েছে। তবে ইরান এই দাবি প্রত্যাখ্যান করে একে তাদের সার্বভৌমত্বের ওপর নগ্ন হস্তক্ষেপ বলে অভিহিত করেছে।

হামলার কয়েক ঘণ্টা পরেই ইরান তার বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (IRGC) মাধ্যমে পাল্টা জবাব দিতে শুরু করে। পারস্য উপসাগরে মোতায়েন করা মার্কিন নৌবাহিনীর বহর লক্ষ্য করে ইরান কয়েক ডজন আত্মঘাতী ড্রোন ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে। তেহরান দাবি করেছে, এই হামলায় মার্কিন নৌবহরের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। যদিও মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (CENTCOM) জানিয়েছে, তাদের বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা বেশিরভাগ ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র ধ্বংস করতে সক্ষম হয়েছে।
এই রক্তক্ষয়ী সংঘাতের ফলে গত কয়েক মাস ধরে চলা তথাকথিত যুদ্ধবিরতি এখন অর্থহীন হয়ে পড়েছে। ইরানি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, “যুক্তরাষ্ট্র প্রথমে হামলা চালিয়ে সকল শান্তি আলোচনা ও যুদ্ধবিরতির শর্ত লঙ্ঘন করেছে। এখন আর আলোচনার কোনো সুযোগ নেই।”
অন্যদিকে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন। তিনি বলেন, ইরান যদি তাদের আচরণ পরিবর্তন না করে, তবে মার্কিন বাহিনী ইরানের মূল ভূখণ্ডের আরও গভীরে হামলা চালাতে দ্বিধা করবে না।
সর্বশেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত, তেহরানসহ ইরানের দক্ষিণাঞ্চলীয় শহরগুলোতে শক্তিশালী বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার শব্দ শোনা যাচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্র ইরানের অভ্যন্তরে বিমান হামলা শুরু করায় মধ্যপ্রাচ্যের তেলের বাজার এবং বৈশ্বিক অর্থনীতিতে বড় ধরনের অস্থিরতার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। বিশ্বের শক্তিধর রাষ্ট্রগুলো উভয় পক্ষকে সংযম প্রদর্শনের আহ্বান জানালেও পরিস্থিতি এখন নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

আরও খবর

Sponsered content