সর্বশেষ

টার্গেট ঢাকা: ওয়াজ মাহফিলের আড়ালে জামায়াতের ভয়ংকর মিশন”

  ডেস্ক রিপোর্ট : 30 April 2026 , 7:13:55 87 বার পঠিতপ্রিন্ট সংস্করণ

রাজধানী ঢাকাকে অস্থিতিশীল করতে গত জুলাই মাসে বিপুল পরিমাণ অবৈধ অস্ত্রের অনুপ্রবেশ ঘটেছে। চাঞ্চল্যকর এক অনুসন্ধানে বেরিয়ে এসেছে, ঢাকা মহানগরীতে এই অবৈধ অস্ত্র ব্যবসার পেছনে সক্রিয় রয়েছে ২৭ জনের একটি সংঘবদ্ধ ও প্রভাবশালী সিন্ডিকেট। বর্ডার এলাকা থেকে ওয়াজ মাহফিলের আড়ালে অত্যন্ত সুকৌশলে এসব অস্ত্রের চালান ঢাকায় আনা হচ্ছে এবং মজুত করা হচ্ছে নির্দিষ্ট কিছু মাদ্রাসায়।

নির্ভরযোগ্য একটি গোপন সূত্রের বরাতে এই সিন্ডিকেটের মূল হোতাদের নাম, ঠিকানা ও সরবরাহ প্রক্রিয়ার চাঞ্চল্যকর সব তথ্য এখন ত
গোয়েন্দাদের হাতে।
সিন্ডিকেটের রাজনৈতিক মেরুকরণ, অনুসন্ধানে প্রাপ্ত ২৭ জনের নামের তালিকা ও বিস্তারিত তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, এই চক্রটি মূলত রাজনৈতিক পরিচয়ের আড়ালে তাদের অপরাধমূলক কার্যক্রম পরিচালনা করছে। প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী:
১৮ জন:বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা, কর্মী ও কট্টর সমর্থক।
০৯ জন: বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত।
অভিযোগ রয়েছে, গত জুলাৎই মাসে ঢাকা মহানগরীতে যে উত্তপ্ত পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছিল, তার পেছনে এই ২৭ জনের সিন্ডিকেটের সরবরাহকৃত অবৈধ অস্ত্রের বড় ধরনের ভূমিকা ছিল।
চোরাচালানের অভিনব রুট: ঢাল হিসেবে ‘ওয়াজ মাহফিল’, অস্ত্র চোরাচালানের ক্ষেত্রে এই সিন্ডিকেটটি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর চোখ ফাঁকি দিতে এক অভিনব কৌশল বেছে নিয়েছে। সূত্র জানায়, সীমান্তবর্তী এলাকাগুলোতে আয়োজিত বিভিন্ন ওয়াজ মাহফিলে অংশ নেওয়ার নাম করে কিছু ভণ্ড পীর, মাওলানা ও বক্তা নিয়মিত যাতায়াত করেন।
সারারাত মাহফিল শেষে তারা যখন গাড়ির বহর নিয়ে ঢাকায় ফেরেন, তখন অত্যন্ত সুকৌশলে তাদের বহরে ১-২ কেস অবৈধ অস্ত্র ও সরঞ্জাম ঢুকিয়ে দেওয়া হয়। সাধারণত আলেম-ওলামাদের প্রতি সম্মান ও ধর্মীয় অনুভূতির কারণে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তাদের গাড়ি তল্লাশি করা থেকে বিরত থাকে। দীর্ঘদিনের এই নমনীয়তার সুযোগটিই প্রতিনিয়ত কাজে লাগাচ্ছে জামায়াত-শিবির সংশ্লিষ্ট এই চক্রটি।
নিরাপদ আস্তানা যাত্রাবাড়ীর দুই মাদ্রাসা, সীমান্ত পেরিয়ে ঢাকায় প্রবেশ করা এই বিপুল পরিমাণ অবৈধ অস্ত্রগুলো সরাসরি চলে যাচ্ছে রাজধানীর যাত্রাবাড়ী এলাকায়। গোপন তথ্যে নিশ্চিত হওয়া গেছে, যাত্রাবাড়ীর সুনির্দিষ্ট দুটি মাদ্রাসাকে এই অবৈধ অস্ত্রের ট্রানজিট ও গোপন গুদাম হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। সেখানেই অত্যন্ত সতর্কতার সাথে এসব অস্ত্র হেফাজতে রাখা হয় এবং চাহিদা অনুযায়ী পরবর্তীতে রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে সরবরাহ করা হয়।
প্রশাসনের অসহায়ত্ব ও বদলি-আতঙ্ক, সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয়টি হলো, অস্ত্র চোরাচালানের এই রুট ও সিন্ডিকেটের বিষয়ে প্রশাসনের একটি অংশের কাছে তথ্য থাকলেও তারা নির্বিকার। জানা যায়, একজন অবৈধ অস্ত্র ব্যবসায়ীর রুট, অস্ত্র আনার তারিখ এবং সরবরাহকারীর নামসহ যাবতীয় নিখুঁত তথ্য একটি সুরক্ষিত চ্যানেলের মাধ্যমে প্রশাসনের একজন পদস্থ কর্মকর্তার কাছে হস্তান্তর করা হয়েছিল।
কিন্তু বিস্ময়করভাবে, ওই কর্মকর্তা এ বিষয়ে কোনো আইনি অভিযান পরিচালনা করতে অপারগতা প্রকাশ করেন। উল্টো তিনি জানান, এই প্রভাবশালী চক্রটিকে নিয়ে ঘাঁটাঘাঁটি বা তদন্ত করলে তাকে তাৎক্ষণিক বদলির (ট্রান্সফার) শিকার হতে হবে।
প্রশাসনের একাংশের এমন অসহায়ত্ব ও নীরবতার কারণে চক্রটি আরও বেপরোয়া হয়ে উঠছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর শীর্ষ মহলের সরাসরি হস্তক্ষেপ ছাড়া এই অবৈধ অস্ত্রের সিন্ডিকেট ভাঙা সম্ভব নয়।
প্রতিবেদনটি সম্পূর্ণভাবে একটি সুনির্দিষ্ট সূত্র থেকে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে তৈরি করা হয়েছে। অধিকতর তদন্তের স্বার্থে অভিযুক্তদের নাম ও মাদ্রাসার পরিচয় এই মুহূর্তে প্রকাশ করা হলো না।

আরও খবর

Sponsered content