নিজস্ব প্রতিবেদক: 6 April 2026 , 5:04:37 138 বার পঠিতপ্রিন্ট সংস্করণ
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের যানজট নিরসন ও সড়ক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে কুমিল্লার ঐতিহ্যবাহী নিমসার কাঁচা বাজারে আকস্মিক উচ্ছেদ অভিযান চালিয়েছে সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগ। আজ সোমবার সকাল ১১ টায় পুলিশি প্রহরায় এই অভিযান শুরু হয়। কোনো আগাম সতর্কতা বা সময় না দিয়ে ভরা মৌসুমে এই উচ্ছেদে কয়েক কোটি টাকার আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন কয়েক হাজার ব্যবসায়ী ও আড়তদার।
সকাল ১১ টায় যখন বাজারটি কেনাবেচায় মুখর ছিল, ঠিক তখনই বুলডোজার নিয়ে শুরু হয় উচ্ছেদ কার্যক্রম। আকস্মিক এই অভিযানে আড়তে থাকা টন টন শাকসবজি ও কাঁচামাল নষ্ট হয়ে গেছে। ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, সরকার প্রায় ৮ কোটি টাকায় এই বাজার ইজারা দিলেও তাদের মালামাল সরিয়ে নেওয়ার ন্যূনতম সময়টুকু দেওয়া হয়নি।
ক্ষোভ প্রকাশ করে এক আড়তদার বলেন, “এটা উচ্ছেদ নয়, আমাদের পেটে লাথি মারা হয়েছে। মালামাল সরানোর সুযোগ দিলে অন্তত এই লোকসান হতো না।”
অভিযান চলাকালীন বেশ কয়েকজন স্থানীয় জমির মালিক তাদের পৈত্রিক জমি নিয়ে দীর্ঘদিনের ক্ষোভ উগরে দেন। তাদের দাবি, মহাসড়ক প্রশস্তকরণের সময় তাদের জমি নেওয়া হলেও সরকার আজ অবধি ক্ষতিপূরণের টাকা পরিশোধ করেনি। পাওনা টাকা না পাওয়া এবং এখন পৈত্রিক ভিটায় গড়ে তোলা বাজার উচ্ছেদ হওয়ায় তারা চরমভাবে নিঃস্ব হয়ে পড়েছেন।
নিমসার বাজার দেশের অন্যতম বৃহৎ সবজি সরবরাহ কেন্দ্র। এখান থেকে প্রতিদিন শত শত ট্রাক সবজি সারাদেশে যায়। সংশ্লিষ্টদের আশঙ্কা, সরবরাহ সংকটে দেশের বড় বড় শহরে সবজি সরবরাহে বিঘ্ন ঘটতে পারে।
কয়েক হাজার দিনমজুর ও শ্রমিক তাৎক্ষণিকভাবে কর্মহীন হয়ে পড়েছেন। স্থানীয় ক্ষুদ্র চাষি ও পাইকাররা ব্যাপক পুঁজি হারানোর ঝুঁকিতে রয়েছেন।
কুমিল্লা সওজ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী খন্দকার গোলাম মোস্তফা স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, সড়ক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সরকারি ভূমি দখলমুক্ত করা জনস্বার্থে জরুরি। উচ্ছেদের বিষয়ে সওজ-এর অবস্থান অত্যন্ত কঠোর “উচ্ছেদের দিন স্থাপনা সরানোর জন্য কোনো সুযোগ বা অতিরিক্ত সময় দেওয়া হবে না। বিষয়টি জনগুরুত্বপূর্ণ ও সড়ক নিরাপত্তার সাথে সরাসরি জড়িত।”
অভিযান সফল করতে জেলা প্রশাসন, পুলিশ সুপার এবং বুড়িচং ও দেবিদ্বার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে পর্যাপ্ত পুলিশ ও ম্যাজিস্ট্রেট মোতায়েন করা হয়েছিল।
মহাসড়কের পাশে অবৈধ স্থাপনার কারণে দীর্ঘদিনের যানজট ও দুর্ঘটনা থেকে মুক্তি মিলবে বলে সাধারণ যাত্রীদের মধ্যে স্বস্তি দেখা গেলেও, স্থানীয় ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের মধ্যে চরম আতঙ্ক ও অনিশ্চয়তা বিরাজ করছে। ক্ষতিগ্রস্তরা এখন প্রশাসনের কাছে মানবিক দিক বিবেচনা করে বাজারের একটি স্থায়ী ও সুশৃঙ্খল সমাধানের জন্য জেলা প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করছেন।
বর্তমানে উচ্ছেদকৃত এলাকায় কেবলই ধ্বংসস্তূপ পড়ে আছে, আর তার মাঝেই নিজেদের হারিয়ে যাওয়া পুঁজি খুঁজছেন নিঃস্ব ব্যবসায়ীরা।














