সর্বশেষ

ইসরায়েলের সমর্থনে ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধের ঘোষণা উগান্ডার সেনাপ্রধানের

  ডেস্ক রিপোর্ট: 29 March 2026 , 10:49:22 84 বার পঠিতপ্রিন্ট সংস্করণ

উগান্ডার সামরিক বাহিনীর প্রধান জেনারেল মুহুজি কাইনেরুগাবা এক ঝোড়ো সোশ্যাল মিডিয়া বার্তার মাধ্যমে জানিয়েছেন যে, মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধে প্রয়োজনে ইসরায়েলের পক্ষে সরাসরি লড়াইয়ে নামবে তার দেশ। উগান্ডার প্রেসিডেন্ট ইয়োওয়েরি মুসেভেনির ছেলে এবং তার সম্ভাব্য উত্তরসূরি হিসেবে পরিচিত এই জেনারেলের ধারাবাহিক কিছু পোস্ট বর্তমানে ইন্টারনেটে ভাইরাল।

“আমরা ইসরায়েলের পাশে আছি” জেনারেল মুহুজি তার এক্স (সাবেক টুইটার) হ্যান্ডেলে লেখেন, “আমরা ইসরায়েলের পাশে আছি কারণ আমরা খ্রিস্টান।” অন্য একটি পোস্টে তিনি উগান্ডাকে বাইবেলের বীর ‘ডেভিড’-এর সাথে তুলনা করে বলেন, “উগান্ডা হলো সেই ডেভিড যাকে বিশ্ব ভুলে গিয়েছিল এবং অবহেলা করেছিল। আমরাই সেই দৈত্য গোলিয়াথকে (Goliath) পরাজিত করব।”

তিনি আরও স্পষ্ট করে বলেন, “আমরা চাই মধ্যপ্রাচ্যের এই যুদ্ধ এখনই শেষ হোক। বিশ্ব এতে ক্লান্ত। কিন্তু ইসরায়েলকে ধ্বংস বা পরাজিত করার যেকোনো কথা আমাদের এই যুদ্ধে টেনে আনবে। আর আমরা অবশ্যই ইসরায়েলের পক্ষে লড়াই করব!”উগান্ডার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে, দেশটির ৪৫,০০০ সক্রিয় সৈন্য এবং প্রায় ৩৫,০০০ রিজার্ভ ফোর্স রয়েছে। এছাড়াও তাদের বহরে প্রায় ২৪০টি ট্যাংক এবং ১,০০০-এর বেশি সাঁজোয়া যুদ্ধযান রয়েছে। উগান্ডা বর্তমানে সোমালিয়ায় আল-শাবাব এবং কঙ্গোতে (DRC) আইএস-সংশ্লিষ্ট এডিএফ (ADF) সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে সক্রিয়ভাবে লড়াই করছে।বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ইরান সরাসরি উগান্ডায় সক্রিয় না থাকলেও প্রতিবেশী কেনিয়া ও তানজানিয়ায় তাদের বিতর্কিত কার্যক্রম নিয়ে উগান্ডা উদ্বিগ্ন। বিশেষ করে লোহিত সাগর ও ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলে ইরানের কৌশলগত প্রভাব বিস্তারের চেষ্টাকে উগান্ডা তাদের আঞ্চলিক নিরাপত্তার জন্য হুমকি মনে করে।

ইসরায়েলের সাথে উগান্ডার সম্পর্ক সবসময় বর্তমানের মতো মধুর ছিল না। ১৯৭৬ সালে তৎকালীন স্বৈরশাসক ইদি আমিনের শাসনামলে ফিলিস্তিনি যোদ্ধারা একটি বিমান হাইজ্যাক করে উগান্ডার এন্টেবে বিমানবন্দরে নিয়ে গিয়েছিল। সেই সময় ইসরায়েলি কমান্ডোরা এক দুঃসাহসিক অভিযান (অপারেশন থান্ডারবোল্ট) চালিয়ে জিম্মিদের উদ্ধার করে।সেই অভিযানে বর্তমান ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর বড় ভাই লেফটেন্যান্ট কর্নেল ইয়োনাথান “ইয়োনি” নেতানিয়াহু নিহত হন। জেনারেল মুহুজি ঘোষণা করেছেন যে, বন্ধুত্বের নিদর্শন হিসেবে এন্টেবে বিমানবন্দরের ঠিক যে স্থানে ইয়োনাথান প্রাণ হারিয়েছিলেন, সেখানে তার একটি স্মৃতিস্তম্ভ বা মূর্তি স্থাপন করা হবে। ইতিমধ্যে তিনি সেই মূর্তির একটি খসড়া ছবিও সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করেছেন।জেনারেল মুহুজি বলেন, “৮০ ও ৯০-এর দশকে যখন আমাদের কেউ ছিল না, তখন ইসরায়েল আমাদের পাশে দাঁড়িয়েছিল। এখন আমাদের জিডিপি ১০০ বিলিয়ন ডলার—যা আফ্রিকার অন্যতম বৃহত্তম। তবে কেন আমরা এখন তাদের রক্ষা করব না?”

আরও খবর

Sponsered content