আর্ন্তজাতিক : 25 March 2026 , 2:38:28 82 বার পঠিতপ্রিন্ট সংস্করণ
ওয়াশিংটন ডি.সি: দীর্ঘ ২৪ দিন ধরে চলা ইরান-যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল সংঘাতের অবসান ঘটাতে একটি অভাবনীয় প্রস্তাবের ইঙ্গিত দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। কূটনৈতিক সূত্রের খবর অনুযায়ী, ইরান যদি যুদ্ধের ক্ষয়ক্ষতি ও আঞ্চলিক অস্থিতিশীলতার ক্ষতিপূরণ বাবদ ৫০০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার প্রদানে সম্মত হয়, তবে যুক্তরাষ্ট্র সামরিক অভিযান বন্ধ করে যুদ্ধ থেকে সরে দাঁড়াতে পারে।
সম্প্রতি ফ্লোরিডার পাম বিচে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে ট্রাম্প জানান, ইরান একটি ‘বড় চুক্তি’ করতে অত্যন্ত আগ্রহী। তিনি বলেন, “ইরান খুব খারাপ অবস্থায় আছে এবং তারা একটি সমাধান চায়। আমরাও চাই এই যুদ্ধের অবসান ঘটুক, তবে তা হতে হবে আমেরিকার শর্তে।”
উল্লেখ্য যে, গত কয়েক দিনে জ্বালানি বাজারে ব্যাপক অস্থিরতার মাঝে ট্রাম্প ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোতে হামলা চালানোর হুমকি পাঁচ দিনের জন্য স্থগিত করেছেন। এই বিরতির মধ্যেই পর্দার আড়ালে বিশাল অংকের এই ক্ষতিপূরণ বা ‘ডিল’ নিয়ে আলোচনা চলছে বলে গুঞ্জন উঠেছে।
ট্রাম্পের এই নমনীয় মনোভাব এবং সমঝোতার ইঙ্গিতে বিশ্ববাজারে তেলের দাম এক ধাক্কায় প্রায় **১১% থেকে ১৫%** কমেছে। বিনিয়োগকারীরা আশা করছেন, ৫০০ বিলিয়ন ডলারের এই প্রস্তাব যদি বাস্তবে রূপ নেয়, তবে হরমুজ প্রণালী পুনরায় খুলে দেওয়া হবে এবং বৈশ্বিক জ্বালানি সংকট নিরসন হবে।
যদিও ট্রাম্প প্রশাসন আলোচনার বিষয়ে আশাবাদী, তেহরান এখনো সরাসরি কোনো আলোচনার কথা অস্বীকার করছে। তবে ওমান ও পাকিস্তানের মতো মধ্যস্থতাকারী দেশগুলোর মাধ্যমে বার্তা আদান-প্রদান অব্যাহত রয়েছে। ইরানের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তারা যেকোনো ‘ন্যায়সঙ্গত’ প্রস্তাব বিবেচনা করতে প্রস্তুত, তবে কোনো ধরণের একতরফা চাপ তারা মেনে নেবে না।
ফেব্রুয়ারির শেষ থেকে শুরু হওয়া এই যুদ্ধে এ পর্যন্ত দুই পক্ষের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। পেন্টাগন ইতিমধ্যে যুদ্ধের খরচ মেটাতে কংগ্রেসের কাছে ২০০ বিলিয়ন ডলারের অতিরিক্ত বরাদ্দের আবেদন করেছে। এমন অবস্থায় ৫০০ বিলিয়ন ডলারের একটি আর্থিক সমঝোতা ট্রাম্পের ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ নীতির জন্য বড় একটি বিজয় হতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।











