সর্বশেষ

কুমিল্লার বুড়িচংয়ে মাদকবিরোধী অভিযানে প্রশ্নের ঝড়—আসল কারবারিরা ধরাছোঁয়ার বাইরে কেন?

  নিজস্ব প্রতিবেদক : 24 March 2026 , 1:59:17 96 বার পঠিতপ্রিন্ট সংস্করণ

কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলায় সাম্প্রতিক মাদকবিরোধী অভিযান ঘিরে স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ ও প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, বড় মাদক ব্যবসায়ীদের আড়াল করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী শুধুমাত্র সাধারণ মাদকসেবীদের আটক করে ‘অভিযান সফল’ দেখানোর কৌশল গ্রহণ করছে। ফলে প্রকৃত অপরাধীরা থেকে যাচ্ছে ধরাছোঁয়ার বাইরে, আর সাধারণ মানুষ পাচ্ছে বিভ্রান্তিকর বার্তা।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত এক মাসে বুড়িচং থানার আওতায় পরিচালিত বিভিন্ন অভিযানে বেশ কয়েকজনকে আটক করা হলেও তাদের অধিকাংশই মাদকসেবী। অথচ এলাকার পরিচিত বড় মাদক ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে দৃশ্যমান কোনো কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। এতে করে প্রশ্ন উঠেছে—এই অভিযান আসলে কাদের বিরুদ্ধে পরিচালিত হচ্ছে?

স্থানীয় বাসিন্দারা অভিযোগ করেন, “যারা মূল ডিলার, তাদের ধরার কোনো উদ্যোগ চোখে পড়ে না। বরং ছোটখাটো সেবীদের ধরে চালান দিয়ে পুলিশ নিজেদের সফল হিসেবে তুলে ধরছে।” এমন অভিযোগও রয়েছে যে, এসব অভিযান অনেক সময় বড় ব্যবসায়ীদের রক্ষা করার কৌশল হিসেবেও কাজ করছে। এতে করে মাদক ব্যবসার মূল নেটওয়ার্ক অক্ষত থাকছে এবং বাজারে মাদকের সরবরাহও কমছে না।

আরও অভিযোগ উঠেছে, স্থানীয় রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও কিছু অভিযানের সুযোগ নিয়ে পুলিশ নিজেদের কার্যক্রমকে ‘জনপ্রিয়’ হিসেবে উপস্থাপন করছে। বিশেষ করে স্থানীয় এমপির মাদকবিরোধী কঠোর অবস্থানের সুযোগে কিছু পুলিশ কর্মকর্তা নিজেদের ‘সক্রিয়তা’ প্রদর্শন করলেও বাস্তব চিত্র ভিন্ন বলে দাবি করছেন অনেকেই।

এদিকে থানার কয়েকজন কর্মকর্তার নামও আলোচনায় এসেছে। অভিযোগ রয়েছে, অভিযানে অংশ নেওয়া কিছু কর্মকর্তা সম্প্রতি ‘শ্রেষ্ঠ অফিসার’ হিসেবে স্বীকৃতি পেলেও তাদের কার্যক্রম নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন স্থানীয়রা। তারা বলছেন, “যদি সত্যিই তারা সফল হতেন, তাহলে বড় মাদক কারবারিরা এতদিনে গ্রেপ্তার হতো।”

বিশেষজ্ঞদের মতে, মাদক সমস্যার স্থায়ী সমাধান করতে হলে কেবল সেবীদের নয়, বরং পুরো সরবরাহ চেইন ভেঙে দিতে হবে। মূল হোতা ও ডিলারদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা না নিলে এ ধরনের অভিযান দীর্ঘমেয়াদে কোনো কার্যকর ফল বয়ে আনবে না। বরং এতে করে সমাজে মাদকের বিস্তার আরও জটিল রূপ নিতে পারে।

এ বিষয়ে বুড়িচং থানার পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে সচেতন মহল মনে করছে, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হলে এসব অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত জরুরি। একই সঙ্গে প্রকৃত অপরাধীদের আইনের আওতায় আনা এবং সাধারণ মানুষকে হয়রানি থেকে রক্ষা করাই হওয়া উচিত প্রশাসনের প্রধান লক্ষ্য।

বর্তমান পরিস্থিতিতে বুড়িচংবাসীর একটাই প্রশ্ন—এই অভিযান কি সত্যিই মাদক নির্মূলে কার্যকর, নাকি এটি কেবল একটি ‘নাটকীয় প্রদর্শনী’? এর উত্তর খুঁজতে এখন সকলের দৃষ্টি প্রশাসনের দিকে।

আরও খবর

Sponsered content