নিজস্ব প্রতিবেদক 19 May 2026 , 1:29:12 80 বার পঠিতপ্রিন্ট সংস্করণ
কুমিল্লার বুড়িচংয়ে তৃতীয় লিঙ্গের সদস্য এনামুল হক শিশির ওরফে মাহিকে (২৯) হাত-পা বেঁধে গায়ে পেট্রোল ঢেলে পুড়িয়ে হত্যার চাঞ্চল্যকর ঘটনায় জড়িত প্রধান আসামিকে গ্রেফতার করেছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)।
গতকাল সোমবার (১৮ মে) রাত ১১টা ২০ মিনিটে র্যাব-১১ ও র্যাব-৬ এর একটি যৌথ দল সাতক্ষীরা জেলার সদর থানার অন্তর্ভুক্ত ভোমরা সীমান্ত এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করে।
গ্রেফতারকৃত আসামি হলো জহির ইসলাম ওরফে আপন ওরফে জহির হিজড়া (৪৬)। সে কুমিল্লা জেলার বুড়িচং বাজারস্থ মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স সংলগ্ন সরকারি টিনশেড আবাসনের বাসিন্দা এবং মৃত জাফর আলীর ছেলে।
র্যাবের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে, নিহত মাহি এবং গ্রেফতারকৃত জহিরসহ বাকি অভিযুক্তরা সবাই তৃতীয় লিঙ্গের সদস্য। তারা দীর্ঘদিন ধরে বুড়িচং বাজারে একই সাথে বসবাস করে আসছিলেন। মূলত মাদক ব্যবসার সাথে জড়িত ছিলেন তারা। দীর্ঘদিন ধরে মাদকের টাকা ভাগাভাগি নিয়ে তাদের মধ্যে অভ্যন্তরীণ বিরোধ চলছিল।
র্যাব জানায়, পূর্ব বিরোধের জেরে গত ১৩ মে ২০২৬ তারিখ সকাল ১০টার দিকে বুড়িচং বাজারের মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স সংলগ্ন আসামিদের নিজেদের থাকার ঘরে মাহিকে আটকে ফেলা হয়। এরপর তার হাত-পা বেঁধে গায়ে পেট্রোল ঢেলে নির্মমভাবে আগুন ধরিয়ে দেয় জহির ও তার সহযোগীরা।
মাহির আত্মচিৎকারে আশপাশের লোকজন ছুটে এসে তাকে উদ্ধার করে প্রথমে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যায়। অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ঢাকার জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত ১৭ মে ২০২৬ তারিখ ভোর ৪টার দিকে মাহি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।
এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের পর নিহতের পিতা বাদী হয়ে বুড়িচং থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় ব্যপক আলোড়ন ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করলে র্যাব আসামিদের গ্রেফতারে গোয়েন্দা নজরদারি বৃদ্ধি করে। অবশেষে তথ্য-প্রযুক্তির সহায়তায় ঘটনার প্রধান আসামিকে সাতক্ষীরা থেকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয় র্যাব।
র্যাব-১১ এর ভারপ্রাপ্ত কোম্পানী অধিনায়ক ও সিনিয়র এএসপি মিঠুন কুমার কুণ্ডু জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতারকৃত আসামি জহির এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডে নিজের সম্পৃক্ততার কথা অকপটে স্বীকার করেছে। তার বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।















