জাতীয়

আরএসএস-এর স্তম্ভ: বাংলায় হিন্দুত্ববাদী আদর্শের প্রসারে কারা লড়ছে ফ্রন্টলাইনে?

  অনুসৃত : 8 May 2026 , 2:48:10 79 বার পঠিতপ্রিন্ট সংস্করণ

পশ্চিমবঙ্গের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক ও সামাজিক প্রেক্ষাপটে রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘ (RSS) বা সংঘ পরিবারের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। ২০১৩ থেকে ২০২০ সালের মধ্যে বাংলায় হিন্দুত্ববাদী আদর্শ প্রচার এবং সামাজিক কাজের মাধ্যমে নিজেদের ভিত্তি শক্ত করতে সংঘ পরিবারের একাধিক শাখা সংগঠন সক্রিয়ভাবে কাজ করেছে।
সক্রিয় সংগঠনের তালিকা: বাংলায় বিভিন্ন ক্ষেত্রে কর্মরত প্রধান ৩১টি সংগঠনের তালিকা প্রকাশ পেয়েছে।
১. বিশ্ব হিন্দু পরিষদ (VHP)
২. বজরং দল: ভিএইচপির পুরুষ যুব শাখা।
৩. দুর্গা বাহিনী: ভিএইচপির মহিলা যুব শাখা।
৪. হিন্দু জাগরণ মঞ্চ (HJM)
৫. হিন্দু যুব বাহিনী: হিন্দু জাগরণ মঞ্চের যুব শাখা।
৬. বনবাসী কল্যাণ আশ্রম: আদিবাসী বা উপজাতি সম্প্রদায়ের মধ্যে কর্মরত।
৭. আরোগ্য ভারতী: ঐতিহ্যবাহী চিকিৎসা বা আয়ুর্বেদ শাখা।
৮. ভারতীয় কিষাণ সঙ্ঘ: কৃষক সংগঠন।
৯. ভারতীয় মজদুর সঙ্ঘ: শ্রমিক সংগঠন।
১০. সহকার ভারতী: সমবায় বিষয়ক শাখা।
১১. সংস্কার ভারতী: সাংস্কৃতিক শাখা।
১২. বিজ্ঞান ভারতী: বিজ্ঞান বিষয়ক শাখা।
১৩. শক্তি: বিজ্ঞান ভারতীর মহিলা শাখা।
১৪. বিদ্যা ভারতী: শিক্ষা বিষয়ক শাখা।
১৫. আরোগ্য ফাউন্ডেশন অফ ইন্ডিয়া: একল অভিযানের অংশ।
১৬. ফ্রেন্ডস অফ ট্রাইবাল সোসাইটি: যা ‘বনবন্ধু পরিষদ’ নামেও পরিচিত।
১৭. শ্রী হরি সৎসঙ্গ সমিতি: একল অভিযানের অংশ।
১৮. ন্যাশনাল মেডিকোস অর্গানাইজেশন: অ্যালোপ্যাথি চিকিৎসকদের শাখা।
১৯. বঙ্গীয় শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মী সঙ্ঘ: হাইস্কুল শিক্ষকদের সংগঠন।
২০. বঙ্গীয় নব উন্মেষ প্রাথমিক শিক্ষক সঙ্ঘ: প্রাথমিক শিক্ষকদের সংগঠন।
২১. অখিল ভারতীয় বিদ্যার্থী পরিষদ (ABVP): ছাত্র সংগঠন।
২২. সেবা ভারতী: সমাজসেবামূলক শাখা।
২৩. ক্রীড়া ভারতী: ক্রীড়া বিষয়ক শাখা।
২৪. প্রজ্ঞা প্রবাহ: বুদ্ধিজীবী বা চিন্তাশীল শাখা।
২৫. বাস্তুহারা সহায়তা সমিতি: শরণার্থী বিষয়ক শাখা।
২৬. লঘু উদ্যোগ ভারতী: MSME বা ক্ষুদ্র শিল্প বিষয়ক শাখা।
২৭. রাষ্ট্রীয় সেবিকা সমিতি: আরএসএস-এর মহিলা শাখা।
২৮. ভারত বিকাশ পরিষদ
২৯. অখিল ভারতীয় अधिवक्ता পরিষদ: বাংলায় এটি ‘ন্যাশনালিস্ট লয়ার্স ফোরাম’ নামে পরিচিত।
৩০. রাষ্ট্রীয় কলা মঞ্চ: এবিভিপি-র শিল্পকলা শাখা।
৩১. সক্ষম: বিশেষভাবে সক্ষম ব্যক্তিদের জন্য আরএসএস-এর শাখা।

সমন্বয় ও মাঠপর্যায়ের কার্যক্রম:
মুর্শিদাবাদ জেলা: শক্তিপুরের সোমপাড়া এলাকায় ‘বিবেকানন্দ বিদ্যা বিকাশ পরিষদ’ একটি সরস্বতী শিশু মন্দির (স্কুল) পরিচালনা করে, যেখানে ‘সেবা ভারতী’ একটি প্রাক-প্রাথমিক স্কুল বা সংস্কার কেন্দ্র চালায়।
সামাজিক উৎসব: জন্মাষ্টমীর মতো উৎসবে ধর্ম জাগরণ সমন্বয় বিভাগ এবং স্থানীয় স্কুলগুলো একত্রে কৃষ্ণ সাজো প্রতিযোগিতার আয়োজন করে। ২০১৭ সালের রাখি বন্ধন উৎসবে প্রায় ৩০০০ অভিভাবক অংশ নিয়েছিলেন।
দক্ষিণ ২৪ পরগনা: আমতলার মাঞ্জুশ্রী ভিলায় ২০১৪ সালে একটি চক্ষু পরীক্ষা শিবিরের আয়োজন করা হয়েছিল, যেখানে সেবা ভারতী, বাস্তুহারা সহায়তা সমিতি এবং স্থানীয় নাগরিক অধিকার রক্ষা সমিতি একত্রে কাজ করেছে।
উত্তরবঙ্গ: আলিপুরদুয়ার গণবিবাহ সমিতি এবং সেবায়ন পশ্চিমবঙ্গ, ভিএইচপি এবং শ্রী হরি সৎসঙ্গ সমিতির সহায়তায় আদিবাসী সম্প্রদায়ের জন্য গণবিবাহের আয়োজন করে।
লেখকের মতে, কেবল রাজনৈতিক প্রচার নয়, বরং শিক্ষা, স্বাস্থ্য, সংস্কৃতি এবং আর্তসেবার মতো বিভিন্ন সামাজিক স্তরে এই সংগঠনগুলোর সক্রিয় উপস্থিতি বাংলায় সংঘ পরিবারের প্রভাব বৃদ্ধিতে সহায়ক হয়েছে।

আরও খবর

Sponsered content