নিজস্ব প্রতিবেদক: 5 April 2026 , 8:19:20 141 বার পঠিতপ্রিন্ট সংস্করণ
সিলেটের সেই ভাইরাল ‘ফুলকন্যা’ ফাইজার দায়িত্ব নিলেন শিল্পপতি ফাহিম আল চৌধুরী একগুচ্ছ গোলাপ হাতে নিজেই যেন এক গোলাপ। সিলেটের রাস্তায় একগুচ্ছ গোলাপ হাতে এক মায়াবী হাসির শিশু—সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সম্প্রতি এই দৃশ্যটি ছুঁয়ে গেছে লাখো মানুষের হৃদয়। মা-বাবা হারানো সেই ছোট্ট মেয়েটি, যাকে নেটিজেনরা আদর করে নাম দিয়েছেন ‘ফুলকন্যা ফাইজা’। দারিদ্র্যের করাঘাতে শৈশব যখন বিপন্ন, ঠিক তখনই এই দেবশিশুর সহায় হয়ে এগিয়ে এলেন সিলেটের কৃতি সন্তান ও সিলেট টাইটান্স-এর উপদেষ্টা, বিশিষ্ট শিল্পপতি ফাহিম আল চৌধুরী।
ভাইরাল হওয়ার পর থেকেই ফাইজাকে নিয়ে মানুষের আগ্রহ ছিল তুঙ্গে। মা-বাবা নেই, বৃদ্ধ নানীর সাথে অভাবের সংসারে ফুল বিক্রি করেই চলতো তার জীবন। সেই অভাবের কালো ছায়া দূর করতে ফাইজার পড়াশোনা, ভরণপোষণসহ যাবতীয় সব দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন ফাহিম আল চৌধুরী।
এই মহতী উদ্যোগের খবরটি নিশ্চিত করেছেন সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার আবদুল কুদ্দুছ চৌধুরী। তিনি জানান, ফাহিম আল চৌধুরী ফাইজার ভবিষ্যতের সকল ভার বহন করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, যা মানবতার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।
“ফুল যখন ফুল বিক্রি করে, তখন সেই দৃশ্যের চেয়ে সুন্দর আর কিছু হতে পারে না। কিন্তু শিশুর হাতে ফুলের বদলে বই থাকা জরুরি। ফাইজার হাসিকে চিরস্থায়ী করতেই এই ক্ষুদ্র প্রয়াস।”
— ফাহিম আল চৌধুরী, উপদেষ্টা, সিলেট টাইটান্স।
খুশিতে চোখের পানি ঝরল নানীর, ফাইজার দায়িত্ব নেওয়ার খবর শোনার পর তার বৃদ্ধ নানী আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। তিনি বলেন, “মা-বাবা মরা মেয়েটারে নিয়া খুব চিন্তায় আছিলাম। আল্লায় আমার বাচ্চার দিকে মুখ তুলিয়া চাইছেন। আমি খুশিতে কান্না থামাতে পারছি না।”
অভাবের কালো ছায়া ও প্রশ্নবিদ্ধ শৈশব: ফাইজার ভাগ্য পরিবর্তন হলেও আজও দেশের হাজারো শিশু পথে পথে ফুল বিক্রি বা শ্রম দিয়ে জীবন পার করছে। প্রশ্ন উঠছে—কেন আজও অভাবের কালো ছায়া এই কোমলমতি শিশুদের ঘর ছাড়ে না? ফাইজার মতো ভাগ্য সবার না হলেও, সমাজের বিত্তবানরা এগিয়ে আসলে হয়তো কোনো শিশুকেই আর শিক্ষার পরিবর্তে শ্রম বেছে নিতে হতো না।













