সর্বশেষ

বাড়ছে হামের প্রকোপ আতঙ্কিত না হয়ে সচেতন হওয়ার পরামর্শ চিকিৎসকদের

  ডেস্ক রিপোর্ট: 4 April 2026 , 5:33:09 97 বার পঠিতপ্রিন্ট সংস্করণ

ঋতু পরিবর্তনের এই সময়ে দেশে শিশুদের মধ্যে হাম বা মিজলস-এর প্রকোপ লক্ষ্য করা যাচ্ছে। অত্যন্ত ছোঁয়াচে এই রোগটি নিয়ে অভিভাবকদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়লেও চিকিৎসকরা বলছেন, সঠিক সময়ে সঠিক ব্যবস্থা নিলে হাম নিয়ে ভয়ের কিছু নেই।

হামের লক্ষণসমূহ

সাধারণত আক্রান্ত ব্যক্তির সংস্পর্শে আসার ১০ থেকে ১৪ দিনের মধ্যে লক্ষণ প্রকাশ পায়। প্রধান লক্ষণগুলো হলো:

  • তীব্র জ্বর এবং শরীর ম্যাজম্যাজ করা।

  • শুকনো কাশি, সর্দি এবং চোখ লাল হওয়া।

  • জ্বরের ২-৩ দিন পর মুখে সাদাটে দাগ (কপ্লিক স্পট) এবং শরীরে লালচে দানা বা র‍্যাশ ওঠা।

হাম হলে যা করণীয়

হাম একটি ভাইরাসজনিত রোগ, তাই এর নির্দিষ্ট কোনো অ্যান্টিবায়োটিক নেই। তবে ঘরোয়া যত্ন ও কিছু সতর্কতা দ্রুত সুস্থ হতে সাহায্য করে:

১. বিচ্ছিন্ন রাখা: হাম অত্যন্ত সংক্রামক। আক্রান্ত শিশুকে অন্তত ৭ থেকে ১০ দিন অন্য শিশুদের থেকে আলাদা রাখুন। স্কুল বা জনসমাগমে পাঠানো থেকে বিরত থাকুন।

২. তরল খাবার ও বিশ্রাম: প্রচুর পরিমাণে পানি, ফলের রস এবং তরল খাবার দিন যেন পানিশূন্যতা না হয়। রোগীকে পূর্ণ বিশ্রামে রাখুন।

৩. ভিটামিন-এ ক্যাপসুল: চিকিৎসকদের মতে, হাম হলে শরীরে ভিটামিন-এ এর অভাব দেখা দেয় যা চোখের ক্ষতি করতে পারে। তাই চিকিৎসকের পরামর্শে দ্রুত উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন ভিটামিন-এ ক্যাপসুল খাওয়ানো জরুরি।

৪. জ্বর নিয়ন্ত্রণ: জ্বর কমানোর জন্য কুসুম গরম পানি দিয়ে শরীর মুছিয়ে দিন এবং চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী প্যারাসিটামল দিন।

কখন চিকিৎসকের কাছে যাবেন?

হামের কারণে অনেক সময় জটিলতা দেখা দিতে পারে। যদি নিচের লক্ষণগুলো দেখা দেয় তবে দ্রুত হাসপাতালে নিতে হবে:

  • প্রচণ্ড শ্বাসকষ্ট বা নিউমোনিয়ার লক্ষণ দেখা দিলে।

  • কান দিয়ে পুঁজ পড়লে বা কানে প্রচণ্ড ব্যথা হলে।

  • অনবরত বমি বা তীব্র ডায়রিয়া হলে।

  • খিঁচুনি বা রোগী অসংলগ্ন আচরণ করলে।

প্রতিরোধের উপায়

হাম প্রতিরোধের সবচেয়ে কার্যকর উপায় হলো এমআর (MR) টিকা। সরকারের নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচির আওতায় শিশুদের ৯ মাস এবং ১৫ মাস বয়সে এই টিকা দেওয়া হয়। যাদের টিকা নেওয়া নেই, তাদের দ্রুত নিকটস্থ স্বাস্থ্যকেন্দ্রে যোগাযোগ করার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।

চিকিৎসকদের মতে, কবিরাজি বা ঝাড়ফুঁকের পেছনে সময় নষ্ট না করে শিশুকে পুষ্টিকর খাবার এবং সঠিক চিকিৎসা দিলে হাম থেকে দ্রুত মুক্তি পাওয়া সম্ভব।


আরও খবর

Sponsered content