নিজস্ব প্রতিবেদক : 4 April 2026 , 4:05:55 94 বার পঠিতপ্রিন্ট সংস্করণ
কুমিল্লা আদালতের গ্রেপ্তারি পরোয়ানা মাথায় নিয়ে মো. মেহেদি হাসান (৪০) নামে এক আসামি প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়ালেও পুলিশ তাকে খুঁজে পাচ্ছে না বলে অভিযোগ উঠেছে। কুমিল্লার আদালতে দায়েরকৃত নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের একটি মামলায় পরোয়ানা জারির প্রায় দুই মাস হতে চললেও আসামি গ্রেপ্তারে চাঁদপুর জেলার কচুয়া থানা পুলিশের কোনো দৃশ্যমান তৎপরতা নেই।
মামলার প্রেক্ষাপট আদালত সূত্রে জানা যায়, কুমিল্লার চান্দিনা এলাকার বাসিন্দা নুরুন নাহার বাদী হয়ে কুমিল্লার সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট (১০ নং আমলী আদালত)-এ মামলাটি দায়ের করেন (সি.আর মামলা নং-৬০৯/২৫ইং)। মামলাটি নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০ (সংশোধনী ২০০৩)-এর ১১(গ)/৩০ ধারায় নথিভুক্ত।
শুনানি চলাকালীন আদালত উভয় পক্ষের জবানবন্দি গ্রহণ করেন। বাদী নুরুন নাহার স্বামীর বিরুদ্ধে মারধর ও ভরণপোষণ না দেওয়ার অভিযোগ এনে সংসার করতে অস্বীকৃতি জানান। আদালত আসামি মেহেদীকে দেনমোহরের টাকা পরিশোধের নির্দেশ দিলে তিনি ২০ দিন সময় চেয়ে নেন। তবে ধার্যকৃত সময়ে আদালতে উপস্থিত না হওয়ায় এবং অর্থ পরিশোধ না করায় বিজ্ঞ আদালত তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা ইস্যু করে সংশ্লিষ্ট কচুয়া থানায় প্রেরণ করেন।
ভুক্তভোগীর অভিযোগ বাদীপক্ষের অভিযোগ, আসামি মেহেদি হাসান বর্তমানে কুমিল্লা শহর এলাকায় অবস্থান করছেন এবং নিয়মিত চাঁদপুরের কচুয়ায় নিজ বাড়িতে যাতায়াত করছেন। তাকে বিভিন্ন স্থানে প্রকাশ্যে ঘুরতে দেখা গেলেও পুলিশ রহস্যজনক কারণে নীরব ভূমিকা পালন করছে। ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি, থানা পুলিশের সাথে সখ্য গড়ে তোলার কারণেই তাকে গ্রেপ্তার করা হচ্ছে না।
আদালতের পরোয়ানা থাকার পরও আসামি গ্রেপ্তার না হওয়ায় চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে ভুক্তভোগী পরিবার। তাদের প্রশ্ন—আসামির অবস্থান সম্পর্কে সুনির্দিষ্ট তথ্য থাকার পরও কেন তাকে আইনের আওতায় আনা হচ্ছে না?
পুলিশের বক্তব্য আসামি গ্রেপ্তার না হওয়া প্রসঙ্গে চাঁদপুরের কচুয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বোরহান উদ্দিন জানান, “থানায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানা আসলে তাকে আমরা ধরে ফেলবো।” তিনি আরও দাবি করেন, ওয়ারেন্টভুক্ত আসামিদের বিষয়ে মাসিক জবাবদিহিতা করতে হয়, তাই গাফিলতির কোনো সুযোগ নেই।
ক্ষোভ ও নিরাপত্তা শঙ্কা প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়ানো আসামিকে ‘পলাতক’ দেখিয়ে পুলিশের এমন দায়সারা বক্তব্যে ক্ষোভ প্রকাশ করেছে ভুক্তভোগী পরিবার। তারা দ্রুত আসামিকে গ্রেপ্তার এবং নিজেদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।














