ডেস্ক রিপোর্ট: 3 April 2026 , 7:05:18 91 বার পঠিতপ্রিন্ট সংস্করণ
বৈশ্বিক জ্বালানি সংকট মোকাবিলা এবং বিদ্যুৎ সাশ্রয়ে সরকারি অফিসের সময়সূচি কমিয়ে আনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, রোববার থেকে সরকারি অফিস চলবে সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত। এছাড়া দোকানপাট ও বিপণিবিতানগুলো সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে বন্ধ করতে হবে।
বৃহস্পতিবার রাতে জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ কক্ষে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বিশেষ বৈঠকে এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। রাত সাড়ে ১১টা পর্যন্ত চলা এই বৈঠকের পর মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গণি সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন।
মন্ত্রিসভার বৈঠকে নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তগুলো নিচে তুলে ধরা হলো: অফিস ও ব্যাংক আওয়ার: সরকারি অফিস আগের সকাল ৯টা-বিকেল ৫টার পরিবর্তে এক ঘণ্টা কমিয়ে সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত চলবে। পাশাপাশি ব্যাংকের লেনদেন চলবে সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত।
দোকানপাট ও বিপণিবিতান: সব ধরনের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও দোকানপাট সন্ধ্যা ৬টার পর খোলা রাখা যাবে না। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো এটি নজরদারি করবে।
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পাঠদান: শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সময়সূচির বিষয়ে রোববার থেকে ধাপে ধাপে নির্দেশনা দেবে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। সব প্রতিষ্ঠানের জন্য এক ঢালাও সিদ্ধান্ত না নিয়ে শিক্ষাকার্যক্রম যেন ব্যাহত না হয়, সেদিকে লক্ষ্য রাখা হবে।
আলোকসজ্জায় নিষেধাজ্ঞা: বিয়ে বা অন্য কোনো উৎসব উপলক্ষে সব ধরনের আলোকসজ্জা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
সরকারি ব্যয় সংকোচনে কঠোর পদক্ষেপ আগামী তিন মাস সরকারি ব্যয় কমানোর লক্ষ্যে বেশ কিছু কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে:
নতুন কোনো যানবাহন (গাড়ি, জলযান, আকাশযান) বা কম্পিউটার সামগ্রী কেনা যাবে না।
অভ্যন্তরীণ প্রশিক্ষণ এবং সভা-সেমিনারের ব্যয় ৫০ শতাংশ কমানো হয়েছে।
পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত সরকারি অর্থায়নে সব ধরনের বৈদেশিক প্রশিক্ষণ বন্ধ থাকবে।
জ্বালানি, বিদ্যুৎ, গ্যাস এবং অপ্রয়োজনীয় ভ্রমণ খাতে সরকারি ব্যয় ৩০ শতাংশ কমানো হবে।
সংকটের কারণ ও বিকল্প অনুসন্ধান ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার জেরে বিশ্বব্যাপী তৈরি হওয়া জ্বালানি সংকটের প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশেও। মন্ত্রিপরিষদ সচিব জানান, দেশের প্রায় ৮০ শতাংশ তেল মধ্যপ্রাচ্য থেকে আসে। সেখানে অস্থিরতার কারণে মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া এবং কাজাখস্তানের মতো বিকল্প উৎস থেকে জ্বালানি সংগ্রহের চেষ্টা চলছে। এর মধ্যেই অবৈধভাবে তেল মজুত ঠেকাতে দেশব্যাপী অভিযান পরিচালনা করছে সরকার।
ইলেকট্রিক বাসে উৎসাহ জ্বালানি নির্ভরতা কমাতে সরকারি স্কুলগুলোতে শিক্ষার্থীদের পরিবহনে ব্যক্তিগত গাড়ির বদলে ইলেকট্রিক বাস (ই-বাস) ব্যবহারে উৎসাহ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। যেসব স্কুল এই কার্যক্রমে অংশ নেবে, তারা সম্পূর্ণ শুল্কমুক্ত সুবিধায় নতুন ই-বাস আমদানি করতে পারবে।
এই জ্বালানি সাশ্রয়ী পদক্ষেপ কতদিন বলবৎ থাকবে—এমন প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রিপরিষদ সচিব জানান, পরিস্থিতি ও সক্ষমতা বিবেচনা করে পরবর্তীতে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। তবে সরকার সাধারণ মানুষের ওপর চাপ যতটা সম্ভব কমিয়ে আনতে সচেষ্ট রয়েছে।











