সর্বশেষ

চৌদ্দগ্রামে জামায়াত নেতার ‘হাতুড়ি পেটায়’ সাবেক মেম্বার রক্তাক্ত, আতঙ্কে খাটরা গ্রাম

  নিজস্ব প্রতিবেদক : 26 March 2026 , 11:19:01 91 বার পঠিতপ্রিন্ট সংস্করণ

কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম উপজেলার গুনবতী ইউনিয়নের খাটরা গ্রামে জামায়াত নেতা মীর হোসেনের বেপরোয়া সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে জনজীবন। সর্বশেষ গত ১৮ মার্চ তারাবির নামাজ শেষে খাটরা গ্রামের সাবেক ইউপি সদস্য বেলাল হোসেনের ওপর অতর্কিত ও নৃশংস হামলার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হলে এলাকায় তীব্র ক্ষোভ ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ঘটনার দিন রাতে তারাবির নামাজ শেষে বাজারে বসে থাকাকালীন মীর হোসেন কোনো প্ররোচনা ছাড়াই বেলাল হোসেনের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়েন। ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে দেখা যায়, হাতুড়ি দিয়ে বেলাল হোসেনের মাথায় উপর্যুপরি আঘাত করা হচ্ছে। এতে তিনি জ্ঞান হারিয়ে ফেললে তাকে উদ্ধার করে প্রথমে ফেনী সদর হাসপাতাল এবং পরে অবস্থার অবনতি হওয়ায় ঢাকার জাতীয় নিউরোসায়েন্স ইনস্টিটিউট ও ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। বর্তমানে তিনি সেখানে আশঙ্কাজনক অবস্থায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
ভুক্তভোগীর স্ত্রী তাসলিমা বেগম জানান, “আমার স্বামীর মাথায় যেভাবে আঘাত করা হয়েছে, তিনি স্বাভাবিক জীবনে ফিরবেন কি না তা নিয়ে আমরা শঙ্কিত। আমরা এখনো পরিবারের নিরাপত্তা নিয়ে আতঙ্কে আছি এবং প্রতিনিয়ত হত্যার হুমকি পাচ্ছি।”
মীর হোসেনের বিরুদ্ধে অভিযোগের পাহাড় স্থানীয়দের দাবি, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট সরকার পরিবর্তনের পর থেকেই মীর হোসেন এলাকায় এক ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছেন। তিনি প্রায়ই সাধারণ মানুষকে ‘আওয়ামী লীগের দোসর’ তকমা দিয়ে অতর্কিত হামলা ও মব জাস্টিস পরিচালনা করেন। তার বিরুদ্ধে আরও অভিযোগ রয়েছে, ৮ ডিসেম্বর ২০২৪: ফরিদা বেগম (৫৫) নামের এক নারীকে প্রকাশ্যে মারধর। অবসরপ্রাপ্ত হাবিলদার সিরাজুল হককে (৭৫) একাধিকবার প্রাণনাশের হুমকি।
স্থানীয়রা অভিযোগ করেন, মীর হোসেনের মামা নূরে আলম ও শাহ আলমের প্রশ্রয়ে তিনি এসব অপকর্ম চালিয়ে যাচ্ছেন। তবে অভিযুক্ত পক্ষ থেকে প্রায়ই মীর হোসেনকে ‘মানসিকভাবে অসুস্থ’ দাবি করে বিচার থেকে ছাড়িয়ে নেওয়ার চেষ্টা করা হয়।

একজন সাবেক জনপ্রতিনিধির ওপর এমন বর্বর হামলার ঘটনায় গ্রামবাসী স্তম্ভিত। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, “যদি একজন সাবেক মেম্বারই নিরাপদ না থাকেন, তবে আমাদের মতো সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা কোথায়?” স্থানীয়রা অবিলম্বে মীর হোসেনকে গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

চৌদ্দগ্রাম থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আবু মাহমুদ কাওসার হোসেন জানান, ঘটনার দিন পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। তিনি বলেন, “লিখিত অভিযোগ পেলেই আমরা দ্রুত প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করব।”

আরও খবর

Sponsered content