সর্বশেষ

সাংবাদিক তোফায়েল ভাইকে হামলার নেতৃত্বে ছিলেন ডিসি মাসুদ 

  তোফায়েল ভাইয়ের লিখনি বক্তব্য: 24 February 2026 , 8:44:05 60 বার পঠিতপ্রিন্ট সংস্করণ

সাংবাদিক তোফায়েল ভাইকে হামলার নেতৃত্বে ছিলেন ডিসি মাসুদ 

পুরো ঘটনা…

গতকাল সন্ধ্যার পরে ব্যক্তিগত কাজে শাহবাগ থানায় যাই। গিয়ে জানতে পারি সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে মাদকবিরোধী অভিযান চালাবে পুলিশ। সেখানে আমার সাথে আমার আরও বেশ কয়েকজন সহকর্মী ছিল। সবাইকে সাথে নিয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সাথে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের গেট দিয়ে ভেতরে প্রবেশ করি। আমরা সবাই রমনা বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার মাসুদ আলম ভাইয়ের জন্য অপেক্ষা করছিলাম। তিনি কিছুক্ষণ পর এসে বললেন, এখনই অভিযান শুরু হবে। আমরাও সাথে সাথে প্রস্তুতি নিলাম। মাসুদ ভাই তার ফোর্স নিয়ে ভেতরে প্রবেশ করার আগে তার কনস্টেবলদের বলেছিলেন, “তোমরা অতি উৎসাহী হয়ে সাংবাদিকদের সাথে অসৌজন্যমূলক আচরণ কইরো না।” পাশ থেকে উঠে এক কনস্টেবল বলল, “না স্যার, আমরা এরকম কিছু করব না।”

এরপর শুরু হয় অভিযান। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা দুটি গ্রুপে ভাগ হয়ে দুই দিক থেকে ধাওয়া দেন। সামনে যাকে পাচ্ছিল, তাকেই বেধড়ক পেটাচ্ছিল। তখন ঘড়িতে সময় আনুমানিক সন্ধ্যা ০৭:৪০-৪৫। অভিযানের প্রথম অংশে আমি রেকর্ড নেওয়ার পর ভাবলাম লাইভে ঢুকবো। তাৎক্ষণিক লাইভের প্রস্তুতি নিয়ে লাইভে ঢুকে গেলাম। ঠিক তখনই ৩-৪ জন কনস্টেবল আবারও একটা গ্রুপকে ধাওয়া দিল, আমিও পিছু নিলাম। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ওই গ্রুপটিকে পুলিশ ধাওয়া দিলেও তারা জায়গাতেই দাঁড়িয়ে ছিল। ওই ৩-৪ জন পুলিশ সদস্য শিক্ষার্থীদের কথা বলার সুযোগ না দিয়েই তাদেরকে বেধড়ক পেটানো শুরু করল। সেখানে শিক্ষার্থীরা সবাই দাঁড়িয়ে থাকলেও একটা ছেলে দৌড় দিল। ওই ৩-৪ জন পুলিশ সদস্য ওই ছেলেটার পিছু নিল। দুর্ভাগ্যবশত ছেলেটা দৌড়াতে গিয়ে হোঁচট খেয়ে মাটিতে পড়ে যায়। ঠিক তখনই ওই ৩-৪ জন পুলিশ সদস্যের মধ্যে থেকে দুইজন ওই ছেলেটাকে বেধড়ক পেটাচ্ছিল, আর তখনই আমি লাইভে ছিলাম।

যে দুজন পুলিশ সদস্য পেটাচ্ছিল, তারা পেছনে ঘুরেই আমাকে দেখতে পেয়ে আমার হাত থেকে মোবাইল ফোনটা নিয়ে নেয়। তখন আমি আমার গলায় আইডি কার্ড পরিহিত অবস্থায় ছিলাম। আমি বারবার তাদেরকে বলছিলাম, “ভাই, আমি একজন সংবাদকর্মী” (যে ভিডিও ইতিমধ্যেই ভাইরাল)। কিন্তু কিছুতেই তারা আমার কথা শোনেননি। একজন আমার ফোন কেড়ে নিয়ে লাইভ কেটে দেন। অপর একজন আমাকে দুই পায়ে লাঠি দিয়ে ৪-৫টা আঘাত করে। ঠিক তখনই আমার বেশ কয়েকজন সহকর্মী আমাকে বাঁচাতে এগিয়ে আসেন। ওরা কেন আমাকে বাঁচাতে আসল, এজন্য দূর থেকে পুলিশের আরও বেশ কয়েকজন সদস্য আমাদের দিকে দৌড়ে আসেন। তখন পূর্বের গ্রুপে থাকা ওই ৩-৪ জন পুলিশ সদস্য আমাকে আমার সহকর্মীদের সামনেই বেধড়ক পেটান।

তখন ওই ঘটনাস্থলে একজন নারী কনস্টেবল ছিল। আমি কিছু বুঝতে না পেরে ওনার হাতটা ধরে বসি। উনিও আমাকে বাঁচাতে বারবার কনস্টেবলদের বোঝাচ্ছিলেন, কিন্তু তারা কারও কোনো কথা না শুনেই আমাকে মাথায়, বাম কাঁধে ও ডান হাতে এলোপাথাড়ি ভাবে আনুমানিক ১৫ থেকে ২০টা আঘাত করেন। তখন আমি নারী কনস্টেবলের পায়ের কাছে অচেতন হয়ে পড়ে যাই। এরপর আমাকে আমার সহকর্মীরা ও পরিচিত বেশ কয়েকজন পুলিশ সদস্য তাৎক্ষণিক ঢাকা মেডিকেলে নিয়ে যান। দীর্ঘক্ষণ চিকিৎসা শেষে আমার সহকর্মীরা আমাকে বাসায় পৌঁছে দেন।

এখন আলহামদুলিল্লাহ্‌ মোটামুটি সুস্থ আছি। আমি চিরকৃতজ্ঞ, আমার সহকর্মী নামক বেশ কয়েকজন ভাই আমার সাথে না থাকলে হয়তোবা আমাকে মেরেই ফেলত। আমার ওপর হামলার খবর শুনে বিভিন্ন গণমাধ্যমের সহকর্মীরা ছুটে এসেছেন। এর পাশাপাশি ঢাকসুর নেতৃবৃন্দরাও আমাকে দেখার জন্য ঢাকা মেডিকেলে ছুটে এসেছেন। এছাড়াও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অনলাইনে, অফলাইনে সার্বক্ষণিক আমার খোঁজখবর নিয়েছেন। সংবাদমাধ্যমে কাজ করে জীবনের সেরা প্রাপ্তি বোধহয় এটাই। সবাই আমাকে দোয়ায় রাখবেন, আপনাদের ভালোবাসায় বেঁচে থাকতে চাই। 

তোফায়েল আহম্মেদ
গণমাধ্যম কর্মী

আরও খবর

Sponsered content