জাতীয়

গত ২ দিনে ৪ শিশু ধর্ষণ চারদিকে ক্ষোভ ও বিচার দাবি

  ডেস্ক রিপোর্ট : 21 May 2026 , 1:59:50 64 বার পঠিতপ্রিন্ট সংস্করণ

Image 38514 1734534784

দেশে সাম্প্রতিক সময়ে শিশু ধর্ষণ, নির্যাতন ও হত্যার মতো জঘন্য অপরাধের মাত্রা উদ্বেগজনক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। গত কয়েক দিনের ব্যবধানে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে বেশ কয়েকটি শিশু চরম নিষ্ঠুরতার শিকার হয়েছে। এর মধ্যে গত দুই-তিন দিনে দেশে অন্তত চারটি ধর্ষণ ও নির্যাতনের ঘটনা জনমনে চরম আতঙ্ক ও ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে। মানবাধিকার সংগঠনগুলো এই পরিস্থিতিকে ‘ভয়াবহ’ বলে আখ্যায়িত করেছে।

সাম্প্রতিক ঘটনাগুলোর মধ্যে সবচেয়ে মর্মান্তিক ঘটনাটি ঘটেছে রাজধানীর পল্লবীতে। গত ১৯ মে সেখানে ৮ বছর বয়সী এক কন্যাশিশুকে ধর্ষণের পর নৃশংসভাবে খণ্ডিত করে হত্যা করা হয়। এই ঘটনায় মূল অভিযুক্ত সোহেল রানা ও তার স্ত্রীকে পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে। গত ২০ মে আদালতে সোহেল রানা শিশুটিকে ধর্ষণের পর হত্যার দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দেয়।
এই জঘন্য হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা মশালমিছিল করে দোষীদের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। পরিস্থিতি বিবেচনায় আইনমন্ত্রী আজ ২১ মে এক বিশেষ নির্দেশনায় আগামী সাত দিনের মধ্যে এই ঘটনার তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।

সাম্প্রতিক এই ঘটনাগুলোর পাশাপাশি পুরোনো কিছু ঘটনার বিচারিক অগ্রগতিও সামনে এসেছে।
গত ২০ মে ফেনীর ফুলগাজীতে এক কন্যাশিশুকে যৌন নিপীড়ন ও ধর্ষণ চেষ্টার দায়ে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল এক যুবককে ৭ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করেন।
অন্যদিকে, গত বছর মাগুরায় ৮ বছরের শিশু আছিয়াকে ধর্ষণের পর হত্যা মামলার মূল আসামির মৃত্যুদণ্ড অনুমোদনের (ডেথ রেফারেন্স) নথিপত্র আজ হাইকোর্টে পৌঁছেছে।
শিশু ধর্ষণ ও নির্যাতনের এই ক্রমবর্ধমান ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ শিশু অধিকার ফোরাম, সেভ দ্য চিলড্রেন, প্ল্যান ইন্টারন্যাশনাল এবং মানুষের জন্য ফাউন্ডেশন (এমজেএফ)।
গত ১৬ মে ঢাকায় আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনগুলোর প্রতিনিধিরা জানান, দেশে প্রতিদিন অসংখ্য শিশু নির্যাতনের শিকার হচ্ছে, যার অনেক ঘটনাই লোকলজ্জা বা ভয়ের কারণে আড়ালে থেকে যাচ্ছে।
সমাজবিজ্ঞানী ও আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, বিচার প্রক্রিয়ার দীর্ঘসূত্রিতা, সামাজিক অবক্ষয় এবং অপরাধীদের রাজনৈতিক বা প্রভাবশালী মহলের ছত্রছায়ায় থাকার কারণেই এমন অপরাধ নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হচ্ছে না। তারা দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের মাধ্যমে এসব মামলার নিষ্পত্তি এবং অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার জোর দাবি জানিয়েছেন। শিশুদের জন্য একটি নিরাপদ সমাজ গড়তে আইনের কঠোর প্রয়োগের পাশাপাশি পারিবারিক ও সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধির কোনো বিকল্প নেই বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

আরও খবর

Sponsered content