সারাদেশ

মিরপুরে দ্বিতীয় শ্রেণির শিশুকে নৃশংসভাবে হত্যা: ঘাতক মেকানিক গ্রেফতার

  রাজধানী প্রতিনিধি : 20 May 2026 , 2:37:29 69 বার পঠিতপ্রিন্ট সংস্করণ

Img 20260520 Wa0012

রাজধানী ঢাকার মিরপুর পল্লবীতে দ্বিতীয় শ্রেণিতে পড়ুয়া আট বছরের শিশু রামিসাকে নির্মম ও পৈশাচিক উপায়ে হত্যা করা হয়েছে। নিখোঁজ হওয়ার মাত্র কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে প্রতিবেশীদের সহায়তায় একটি ফ্ল্যাটের ভেতর থেকে শিশুটির খণ্ডিত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এই ঘটনার মূল অভিযুক্ত পেশায় রিকশা মেকানিক সোহেল রানাকে (৩৫) ঘটনার দিন সন্ধ্যায় নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থেকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

​নিখোঁজ ও মরদেহ উদ্ধার
​পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, প্রতিদিনের মতো গতকাল সকালে রামিসাকে স্কুলে পাঠানোর প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন তার মা। কিন্তু হঠাতই শিশুটিকে ঘরের কোথাও খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিল না। প্রথমে ভাবা হয়েছিল সে হয়তো পাশের কোনো বাসায় খেলতে গেছে। তবে সময় গড়িয়ে গেলেও রামিসা ফিরে না আসায় মায়ের মনে আতঙ্ক দানা বাঁধে। এরপর প্রতিবেশীদের সঙ্গে নিয়ে চারদিকে খোঁজাখুঁজি শুরু হয়।
​একপর্যায়ে ভবনের তৃতীয় তলার একটি ফ্ল্যাটের সামনে রামিসার জুতো পড়ে থাকতে দেখেন প্রতিবেশীরা। সন্দেহ হওয়ায় ওই ফ্ল্যাটের দরজায় বারবার ধাক্কা দিলেও ভেতর থেকে কোনো সাড়া শব্দ পাওয়া যায়নি। পরবর্তীতে উপস্থিত জনতা দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে এক বীভৎস দৃশ্য দেখতে পান।
​ফ্ল্যাটের ভেতরের ঘরের খাটের নিচে পড়ে ছিল রামিসার নিথর দেহ, তবে তা ছিল মস্তকহীন। পরবর্তীতে বাথরুমের ভেতরে থাকা একটি বালতি থেকে তার বিচ্ছিন্ন মাথাটি উদ্ধার করা হয়।
​ঘাতকের পলায়ন ও গ্রেফতার
​পুলিশ জানায়, ঘটনার পর পরই ঘরের জানালার গ্রিল কেটে পালিয়ে যায় অভিযুক্ত ফ্ল্যাট মালিক বা ভাড়াটিয়া সোহেল রানা। ঘটনার খবর পেয়ে দ্রুত পল্লবী থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠায়।
​লুমিনল টেস্ট ও প্রযুক্তির সহায়তায় পুলিশ জানতে পারে ঘাতক ঢাকা ছেড়ে পালিয়েছে। পরবর্তীতে তথ্য-প্রযুক্তির ব্যবহার ও গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে গতকাল সন্ধ্যায় নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা এলাকা থেকে ঘাতক সোহেল রানাকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয় ।
​এলাকায় শোকের ছায়া ও নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ
​এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের খবর ছড়িয়ে পড়লে পুরো মিরপুর এলাকায় নেমে আসে গভীর শোকের ছায়া। ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী অপরাধীর দৃষ্টান্তমূলক ও দ্রুততম সময়ের মধ্যে ফাঁসির দাবি জানিয়েছেন।
​স্থানীয় বাসিন্দারা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, দেশে প্রতিনিয়ত শিশু ও নারীদের ওপর এমন নির্মম পাশবিকতা বাড়ছে। অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও দ্রুত বিচার না হওয়ার কারণেই অপরাধীরা পার পেয়ে যাচ্ছে এবং পার পেয়ে যাওয়ার এই সংস্কৃতিই এমন জঘন্য অপরাধের পুনরাবৃত্তি ঘটাচ্ছে। একটি স্বাধীন ও সভ্য সমাজে শিশুদের নিরাপত্তা এভাবে প্রশ্নের মুখে পড়া অত্যন্ত উদ্বেগজনক।
​পল্লবী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সংবাদমাধ্যমকে জানান
​”এটি একটি অত্যন্ত নৃশংস হত্যাকাণ্ড। আমরা প্রধান আসামিকে দ্রুততম সময়ের মধ্যে গ্রেফতার করেছি। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে কিছু চাঞ্চল্যকর তথ্য মিলেছে। মামলাটি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে তদন্ত করা হচ্ছে এবং আসামির সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করতে পুলিশ আদালতে সব ধরনের তথ্য-প্রমাণ পেশ করবে।”

আরও খবর

Sponsered content