নাটোরের গুরুদাসপুরে উপজেলা প্রশাসনের সংরক্ষিত এলাকায় এক সরকারি কর্মকর্তার বাসায় দুঃসাহসিক ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। উপ-প্রশাসনিক কর্মকর্তা সিরাজুল ইসলামকে সপরিবারে বেঁধে রেখে নগদ টাকা, স্বর্ণালংকার ও মোবাইল ফোন লুট করে নিয়ে গেছে একদল সশস্ত্র ডাকাত।
শনিবার (২ মে) ভোররাত আনুমানিক ৩টার দিকে উপজেলা চত্বরের ভেতরে অবস্থিত সরকারি কোয়ার্টারে এই ঘটনা ঘটে। ভুক্তভোগী সিরাজুল ইসলাম জানান, তিনজনের একটি ডাকাত দল জানালার গ্রিল কেটে তার ঘরে প্রবেশ করে। ডাকাতদের প্রত্যেকের মুখে কালো মাস্ক এবং হাতে দেশীয় অস্ত্র ছিল।
ঘরে ঢুকেই তারা সিরাজুল ইসলামকে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে বেঁধে ফেলে। এরপর তারা তার স্ত্রীর শরীর থেকে সোনার চেন, আংটি ও নূপুর খুলে নেয়। একইসঙ্গে ঘর তল্লাশি করে নগদ ৫০ হাজার টাকা ও দুটি অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নিয়ে যায়।
ডাকাতির সময় যাতে আশপাশের লোকজন সাহায্য করতে না পারে, সেজন্য ডাকাত দল পাশের কোয়ার্টারগুলোর দরজা বাইরে থেকে আটকে দেয়। ডাকাতরা চলে যাওয়ার পর ভুক্তভোগীদের চিৎকারে প্রতিবেশীরা এগিয়ে এসে তাদের উদ্ধার করেন এবং পুলিশে খবর দেন।
খবর পেয়ে গুরুদাসপুর থানা পুলিশ ও জেলা গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) একটি বিশেষ দল দ্রুত ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে। পুলিশ তদন্ত শুরু করার কিছুক্ষণ পর উপজেলা পরিষদের প্রাচীরের কাছ থেকে লুট হওয়া মোবাইল ফোন দুটি উদ্ধার করতে সক্ষম হয়।
আমরা বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে দেখছি। ইতিমধ্যে আলামত সংগ্রহ করা হয়েছে এবং ভুক্তভোগীর লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে অপরাধীদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার চেষ্টা চলছে।" মনজুরুল আলম, ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি), গুরুদাসপুর থানা।
এই ঘটনার পর থেকে উপজেলা কোয়ার্টারের বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে। সরকারি সংরক্ষিত এলাকায় এ ধরনের ডাকাতির ঘটনায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয়রা।