রংপুরের পীরগঞ্জে মহাসড়কে চাঁদাবাজি ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির অভিযোগে হাইওয়ে পুলিশের সদস্যদের ওপর হামলা চালিয়েছে ক্ষুব্ধ জনতা। এ ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর প্রাথমিক পদক্ষেপ হিসেবে অভিযুক্ত ৫ পুলিশ সদস্যকে প্রত্যাহার (ক্লোজড) করেছে কর্তৃপক্ষ।
স্থানীয় ও প্রত্যক্ষদর্শীদের সূত্রে জানা যায়, পীরগঞ্জের একটি চেকপোস্টে দায়িত্বরত হাইওয়ে পুলিশের বিরুদ্ধে বেশ কিছুদিন ধরে সাধারণ যানবাহন আটকে হয়রানি ও জোরপূর্বক ঘুষ আদায়ের অভিযোগ করে আসছিলেন স্থানীয়রা। সম্প্রতি এই পুঞ্জীভূত ক্ষোভের বিস্ফোরণ ঘটে। বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী ও সাধারণ মানুষ সংঘবদ্ধ হয়ে ওই চেকপোস্টে অভিযুক্ত পুলিশ সদস্যদের ওপর চড়াও হয় এবং তাদের গণপিটুনি দেয়।
ঘটনার পরপরই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বেশ কিছু ভিডিও ও খণ্ডিত তথ্য ছড়িয়ে পড়ে। এর মধ্যে পুলিশ সদস্যদের মারতে মারতে পানিতে ফেলে দেওয়া হয়েছে—এমন একটি দাবি ব্যাপকভাবে প্রচার পায়। তবে অনুসন্ধানে নিশ্চিত হওয়া গেছে যে, পানিতে ফেলার এই দাবিটি সম্পূর্ণ গুজব এবং ভিত্তিহীন। ধারণা করা হচ্ছে, অতীতের অন্য কোনো ঘটনার ভিডিও বা খণ্ডিত তথ্যের সঙ্গে পীরগঞ্জের এই ঘটনাকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে বা ভুলবশত গুলিয়ে ফেলা হয়েছে।
পুলিশ সদস্যদের গণপিটুনির ভিডিও ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নজরে আসার পর দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়। কর্তব্যে অবহেলা, অপেশাদার আচরণ ও ঘুষ গ্রহণের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ায় ওই চেকপোস্টে দায়িত্বরত ৫ জন হাইওয়ে পুলিশ সদস্যকে তাৎক্ষণিকভাবে ক্লোজড করা হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, পুলিশের পেশাদারিত্ব বজায় রাখার ক্ষেত্রে জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করা হচ্ছে। পুরো ঘটনার একটি সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত চলছে এবং তদন্ত প্রতিবেদন অনুযায়ী পরবর্তী বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। অন্যদিকে, আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার বিষয়েও সাধারণ মানুষকে সতর্ক করা হয়েছে।