ময়মনসিংহের ফুলপুর থানায় ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার (ওসি) চেয়ারে স্থানীয় সংসদ সদস্যের বসে থাকার একটি ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হওয়ার পর ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। একজন আইন প্রণেতার দাপ্তরিক চেয়ারে বসা এবং পাশে ওসির বসে থাকার দৃশ্যটি নিয়ে জনমনে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।
যা ঘটেছে
জানা গেছে, সম্প্রতি ফুলপুর থানায় একটি সৌজন্য সাক্ষাতে যান স্থানীয় সংসদ সদস্য। থানায় উপস্থিত হন ময়মনসিংহ-২ (ফুলপুর-তারাকান্দা) আসনের সংসদ সদস্য।
সেখানে ওসির জন্য নির্ধারিত প্রধান চেয়ারটিতে তাকে বসে থাকতে দেখা যায়। পাশেই ওসির আসনে না বসে সাধারণ চেয়ারে বসে ছিলেন খোদ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা। এই দৃশ্যটি ক্যামেরাবন্দি হয়ে ইন্টারনেটে ছড়িয়ে পড়লে মুহূর্তেই তা আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছবিটি ছড়িয়ে পড়ার পর সচেতন নাগরিক ও নেটিজেনরা দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে পড়েছেন, প্রশাসনিক শিষ্টাচার, অনেকে মন্তব্য করেছেন, প্রতিটি দপ্তরের একটি নির্দিষ্ট প্রটোকল ও মর্যাদা থাকে। ওসির চেয়ারটি কেবল ওই পদের কর্মকর্তার জন্যই নির্ধারিত। সেখানে রাজনৈতিক ব্যক্তির অবস্থান প্রশাসনের নিরপেক্ষতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে পারে।
ক্ষমতার প্রদর্শন, সাধারণ ব্যবহারকারীদের বড় একটি অংশ একে 'ক্ষমতার দাপট' হিসেবে দেখছেন। তাদের মতে, এটি সরকারি প্রতিষ্ঠানের চেইন অফ কমান্ডের জন্য নেতিবাচক উদাহরণ।
ভিন্নমত, তবে এমপির সমর্থকদের দাবি, এটি কোনো ক্ষমতার দাপট নয় বরং এটি এমপির প্রতি ওসির সম্মান প্রদর্শন এবং তাদের মধ্যে থাকা সুসম্পর্কের বহিঃপ্রকাশ মাত্র।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পুলিশ রেগুলেশন বা সরকারি প্রটোকল অনুযায়ী যে কোনো দপ্তরের প্রধানের চেয়ারটি তার দাপ্তরিক মর্যাদার প্রতীক। আইন প্রণেতা হিসেবে সংসদ সদস্যের সম্মান অনেক উপরে হলেও, একটি রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের প্রশাসনিক কাঠামো ও পেশাদারিত্ব বজায় রাখতে এমন চর্চা এড়িয়ে চলাই শ্রেয়।
এই প্রতিবেদনটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে চলমান আলোচনার ভিত্তিতে তৈরি। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি পাওয়া যায়নি।