কুমিল্লার বুড়িচংয়ে বিদেশে পাঠানোর নামে কোটি টাকা আত্মসাৎ ও মানব পাচারের অভিযোগ উঠেছে আমির হোসেন নামে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। অস্ত্র মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি হওয়া সত্ত্বেও গ্রেপ্তার না হয়ে উল্টো পুলিশ কর্মকর্তাদের সঙ্গে তার নিয়মিত ‘আড্ডার’ খবরে এলাকায় চরম ক্ষোভ ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বুড়িচং উপজেলার মোকাম গ্রামের মৃত আনোয়ার হোসেনের ছেলে আমির হোসেন কয়েক বছর আগে সৌদি আরবে থাকাকালীন কয়েকজনকে ভিসা দিয়ে এলাকায় আস্থা অর্জন করেন। সেই বিশ্বাসকে পুঁজি করে পরবর্তীতে কয়েকশ মানুষের কাছ থেকে সৌদি আরবে পাঠানো ও ‘আকামা’ করে দেওয়ার কথা বলে বিপুল পরিমাণ টাকা সংগ্রহ করেন তিনি। ভুক্তভোগীদের দাবি, গত তিন বছরে তিনি কাউকে বিদেশে পাঠাতে পারেননি, বরং প্রতারণার মাধ্যমে প্রায় এক কোটি টাকারও বেশি আত্মসাৎ করেছেন।
ভুক্তভোগী আফজাল হোসেন জানান, সৌদি আরব পাঠানোর কথা বলে আমির হোসেন তার কাছ থেকে ৪ লাখ ৮০ হাজার টাকা হাতিয়ে নেন। টাকা ফেরত না পেয়ে তিনি বুড়িচং থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। স্থানীয়দের অভিযোগে তারা জানান প্রতারণার টাকায় আমির হোসেন এলাকায় বিলাসবহুল বাড়ি ও গাড়ি করেছেন। মোকাম গ্রামের মৃত সফর আলীর ছেলে মান্নান ও হান্নানের মালিকানাধীন প্রায় ১০টি দোকান জোরপূর্বক দখল করে রাখার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। পাওনা টাকা ফেরৎ চাইলে রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে ভুক্তভোগীদের প্রাণনাশের হুমকি দেন আমির।
সবচেয়ে চাঞ্চল্যকর বিষয় হলো, আমির হোসেন একটি অস্ত্র মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি। আইন অনুযায়ী তাকে গ্রেপ্তারের কথা থাকলেও স্থানীয়দের দাবি, তাকে প্রায়ই দেবপুর পুলিশ ফাঁড়িতে দায়িত্বরত কর্মকর্তাদের সঙ্গে খোশগল্প ও আড্ডা দিতে দেখা যায়। পুলিশের নাকের ডগায় আসামি ঘুরে বেড়ালেও রহস্যজনক কারণে তাকে গ্রেপ্তার করা হচ্ছে না।
বর্তমানে এলাকায় চরম উত্তেজনা ও ক্ষোভ বিরাজ করছে। রাজনৈতিক নেতাদের জানিয়েও কোনো সমাধান না পাওয়ায় ভুক্তভোগীরা এখন দিশেহারা। অভিযুক্ত আমির হোসেনের দ্রুত গ্রেপ্তার, আত্মসাৎকৃত টাকা উদ্ধার এবং জবরদখল হওয়া সম্পত্তি ফিরে পেতে কুমিল্লা জেলা পুলিশ সুপারের (এসপি) জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন এলাকাবাসী।