গ্রেফতারকৃত মিজানুর রহমান পলাশবাড়ী পৌর শহরের গৃধারীপুর এলাকার বাসিন্দা এবং স্থানীয় জামায়াত রাজনীতির সাথে জড়িত।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে শুক্রবার ভোর রাতে ডিবি পুলিশের একটি বিশেষ দল গৃধারীপুর এলাকায় মিজানের নিজ বাসভবনে অভিযান চালায়। সেখান থেকে তাকে আটক করার পর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ শেষে থানায় হস্তান্তর করা হয়। উল্লেখ্য যে, ৫ই আগস্ট সরকার পতনের পরবর্তী সময়ে থানায় হামলা ও বিশৃঙ্খলার অভিযোগে দায়ের হওয়া মামলায় তাকে অভিযুক্ত করা হয়েছে।
২০২৪ সালের ৫ই আগস্ট রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের সময় দেশের বিভিন্ন স্থানে থানা আক্রমণ, অগ্নিসংযোগ এবং পুলিশ সদস্যদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে। পলাশবাড়ী থানাতেও অনুরূপ হামলার ঘটনা ঘটেছিল, যেখানে পুলিশ সদস্যদের ওপর সরাসরি আক্রমণ ও রাষ্ট্রীয় সম্পদে অগ্নিসংযোগের অভিযোগ রয়েছে। দীর্ঘ তদন্ত ও তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে এই ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে মিজানকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
শুক্রবার দুপুরে কড়া নিরাপত্তায় মিজানকে গাইবান্ধা চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করা হয়। আদালত জামিন নামঞ্জুর করে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
গত ৫ই আগস্টের পর থানাগুলোতে হওয়া নজিরবিহীন হামলা এবং পুলিশ হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যে কারা ছিল, তা নিয়ে দেশজুড়ে নানা বিতর্ক ও আলোচনা চলমান রয়েছে। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দাবি, বর্তমান তদন্ত এবং এই ধরনের গ্রেফতারের মধ্য দিয়ে সেদিনের প্রকৃত অপরাধীদের পরিচয় ক্রমান্বয়ে বেরিয়ে আসছে। বিশেষ করে থানাগুলোতে অগ্নিসংযোগ এবং মাঠ পর্যায়ের পুলিশ সদস্যদের ওপর পরিকল্পিত হামলার নেপথ্যে থাকা শক্তিগুলোকে চিহ্নিত করা এখন সময়ের দাবি।
পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সেদিনের নাশকতামূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত অন্যান্য আসামিদের শনাক্ত ও গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত থাকবে।